রিজভীর আশঙ্কা, জামায়াতের অন্য পরিকল্পনা থাকতে পারে

image 355

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ জানিয়েছেন, গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় সংকট সৃষ্টি হলে ‘কালো ঘোড়ার অনুপ্রবেশ’ হতে পারে। বুধবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, বিশ্বের অনেক উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে সরাসরি প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি চালু আছে, যেমন ব্রিটেন, আমেরিকা এবং অন্যান্য দেশগুলোতে। তিনি প্রশ্ন তুলেন, আমাদের দেশে কেন পিআর (অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিকে উৎকৃষ্ট গণতন্ত্রের মডেল হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। রিজভী মন্তব্য করেন, জামায়াতে ইসলামী হয়তো বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে অথবা তাদের অন্য কোনো মাস্টারপ্ল্যান থাকতে পারে।

তিনি বলেন, যারা গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন, তারা এমনভাবে দায়িত্ব পালন করবেন যাতে পরবর্তী গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় কোনো বিঘ্ন না ঘটে। তা না হলে ‘কালো ঘোড়া’ প্রবেশ করতে পারে।

রিজভী আরও বলেন, উন্নত গণতন্ত্রের দেশগুলিতেও পিআর পদ্ধতিকে নিয়ে সমালোচনা ও আলোচনা চলছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জাপান উল্লেখ করেন, যেখানে ৩৭% পিআর পদ্ধতি রয়েছে, কিন্তু তা সারা দেশের মানুষের মতকে পুরোপুরি প্রতিফলিত করতে সক্ষম নয়। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে হঠাৎ পিআর পদ্ধতির বিষয়ে আলোচনা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করবে।

রিজভী গণভোট প্রসঙ্গেও বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী কিছু দল গণভোট আগে করতে চায়, কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন এবং রোজা শুরু হওয়ায় একসঙ্গে নির্বাচন ও গণভোট করাই সবার জন্য গ্রহণযোগ্য হবে।

তিনি জাতীয় নির্বাচনের দ্রুততার প্রয়োজনীয়তাও উল্লেখ করেন। রিজভী বলেন, দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা দিন দিন বেড়ে চলছে। নির্বাচিত সরকার না থাকায় বিনিয়োগ শূন্যের কোঠায়, যা অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্য ক্ষতিকর। তাই জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরিত করা জরুরি, নতুবা সংকট আরও গভীর হবে।