রংপুরে ৩৪ গ্রামের বিশ হাজার মানুষ পানিবন্দি

image 126

রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার ৩৪টি গ্রাম ভয়াবহ বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এতে প্রায় বিশ হাজার পরিবার চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

সোমবার (৬ অক্টোবর) চরাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, পানিবন্দি মানুষদের জীবনে নেমে এসেছে নীরব দুর্ভোগ। অধিকাংশ পরিবারই রান্না করার জায়গা না থাকায় রবিবার রাত থেকে না খেয়ে আছে। আগুন জ্বালানো বা খাবার তৈরি করার উপকরণও পানিতে ভেসে গেছে।

পানিতে তলিয়ে গেছে হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর খাবারের জায়গাও। এতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা। টিউবওয়েলগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য ও পানির অভাবে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে।

নদীর পানি কমতে শুরু করলেও চরের গ্রামগুলো এখনো তলিয়ে আছে। অনেক পরিবার উঁচু সড়ক ও বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। গ্রামের জনপ্রতিনিধিদের মতে, বন্যায় প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে, পাশাপাশি ফসলি জমিতে পানি জমে থাকায় কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নিম্নাঞ্চলের গ্রামগুলো তলিয়ে গেছে। যেদিকে চোখ যায়, কেবল পানিতে ডুবে থাকা বাড়িঘর ও ফসলের জমি।

অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি নিয়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। উপজেলার গঙ্গাচড়া, লক্ষিটারী, গজঘণ্টা, মর্নেয়া, নোহালী, আলমবিদিতর ও কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ তিস্তা তীরবর্তী এলাকা ৪ থেকে ৭ ফুট পানির নিচে ডুবে আছে।

বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন—

  • গঙ্গাচড়া ইউনিয়নে ৫ শতাধিক পরিবার,
  • লক্ষিটারীতে ৩ হাজার পরিবার,
  • গজঘণ্টায় ৫ শতাধিক পরিবার,
  • কোলকোন্দে দেড় হাজার পরিবার,
  • মর্নেয়ায় ১ হাজার পরিবার,
  • নোহালীতে ২ হাজার পরিবার,
  • আলমবিদিতরে ১ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সজীবুল করিম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং দ্রুত তাদের সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, তিস্তার অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে। যেখানে প্রয়োজন, সেখানে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।