অ্যানথ্রাক্স: সংক্রমণ, ছড়ানোর উপায় ও প্রতিরোধ

image 66

রংপুরের পীরগাছায় অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি মিঠাপুকুর ও কাউনিয়ায়ও অ্যানথ্রাক্স সন্দেহে কয়েকজনের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর আগে জুলাই ও সেপ্টেম্বরে পীরগাছায় অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে দুজনের মৃত্যু হলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁদের মৃত্যু সরাসরি অ্যানথ্রাক্সে হয়নি।

প্রথম আলোর অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত দুই মাসে পীরগাছায় অন্তত অর্ধশত মানুষ অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে তিন শতাধিক গবাদিপশু মারা যায়। অসুস্থ গরু জবাই ও মাংস কাটার কারণে একটি পরিবারের চারজনসহ অন্তত ১০ জন সংক্রমিত হন।

আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. তাহমিনা শিরীন জানান, পীরগাছা থেকে সংগৃহীত ১২টি নমুনার মধ্যে আটটিতে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, আক্রান্ত পশু জবাই বা মাংস খেলে সংক্রমণ হয়। কাটাকাটির সময় কারও হাত কেটে গেলে সেখান দিয়েও জীবাণু প্রবেশ করতে পারে। এজন্য অসুস্থ গরু জবাই ও মাংস বিক্রি বন্ধ করতে হবে।

রংপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা জানান, জুলাই মাস থেকে ত্বকজনিত সমস্যায় কিছু মানুষ চিকিৎসা নিয়েছিলেন। পরে জানা যায়, তা অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণ। তবে চিকিৎসায় তাঁরা সুস্থ হয়ে ওঠেন। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং পর্যাপ্ত অ্যান্টিবায়োটিক মজুত রয়েছে। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ বিভাগ পশুর টিকা দিচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, অ্যানথ্রাক্স হলো ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস নামের স্পোর-গঠনকারী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। গরু, ছাগল, ভেড়া প্রভৃতি জাবরকাটা প্রাণি বেশি আক্রান্ত হয় এবং আক্রান্ত প্রাণি থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। সংক্রমিত পশু জবাইয়ের পর মাংস, রক্ত বা চামড়ার সংস্পর্শে এ রোগ ছড়াতে পারে। তবে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম।

মানুষের মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের তিন ধরন দেখা যায়—

  • ত্বকজনিত (কিউট্যানিয়াস): সবচেয়ে বেশি হয়। ক্ষতস্থানে চুলকানি, ফোসকা ও কালো ঘা তৈরি হয়।
  • পাকস্থলিজনিত (গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল): আক্রান্ত পশুর মাংস খেলে হয়। তীব্র পেটব্যথা, ডায়রিয়া ও রক্তবমি দেখা দেয়।
  • শ্বাসজনিত (পালমোনারি): বাতাসের মাধ্যমে প্রচুর জীবাণু ফুসফুসে প্রবেশ করলে ঘটে। এটি বিরল হলেও ভয়াবহ।

অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:

  • অসুস্থ গরু জবাই বা বিক্রি না করা।
  • আক্রান্ত পশুর মৃতদেহ দ্রুত ও নিরাপদে পুড়িয়ে ফেলা।
  • আক্রান্ত এলাকায় নজরদারি ও কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা জোরদার করা।
  • পশুদের নিয়মিত টিকা দেওয়া।
  • কসাইখানা ও দুধ-কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।

পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তানভীর হাসনাত জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন অ্যানথ্রাক্স আক্রান্তকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মানুষের জন্য অ্যানথ্রাক্সের টিকা নেই, তবে চিকিৎসা সঠিকভাবে করলে রোগ সেরে যায়। তাই অসুস্থ গরুর মাংস নাড়াচাড়া না করার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।