
করুরের ভয়াবহ দুর্ঘটনাকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছে তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম (টিভিকে)। তাদের অভিযোগ, সভায় পাথর ছোড়া ও পুলিশের লাঠিচার্জই এই বিপর্যয়ের কারণ। অন্যদিকে শাসকদল ডিএমকে বলছে, নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় টিভিকে-র মারাত্মক গাফিলতিই এর জন্য দায়ী।
ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। এ হতাহতের ঘটনায় বিজয় থালাপতির দলের তিন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এতে আলোচনায় এসেছে— এই ঘটনায় বিজয় নিজেও কি আইনি ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছেন?
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ভারতীয় পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গন ইতোমধ্যে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিজয়ের দল টিভিকে মাদ্রাজ হাই কোর্টে নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন করেছে। সোমবার দুপুরে মামলাটি শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। বিজেপি প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় চাপাচ্ছে ডিএমকের ওপর, আর বিজেপির সাবেক সভাপতি কে আন্নামালাই সতর্ক করে বলেছেন, তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত বিজয়ের প্রতি সহানুভূতি তৈরি করতে পারে।
ঘটনার পর বিজয় দ্রুত চেন্নাই ফিরে যান, যা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। রবিবার করুর যেতে চাইলেও আইনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে প্রশাসন তাকে সেখানে যেতে দেয়নি। নিহতদের পরিবারকে তিনি ২০ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন।
অভিনয় জগত থেকে রাজনীতিতে আসা বিজয় এর আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হুমকি দিয়ে শিরোনামে এসেছিলেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, করুরের এই মর্মান্তিক ঘটনা তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। তবে যদি তাকে গ্রেফতার করা হয়, উল্টো তার প্রতি জনমনে সহানুভূতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
সব মিলিয়ে, আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে পুরো তামিল রাজনীতি।