
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ থেকে সাদা পাথর লুটের ঘটনায় জড়িতদের তালিকা দাখিল এবং লুট হওয়া সব পাথর সাত দিনের মধ্যে আগের স্থানে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার বেঞ্চ এক রিটের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
এদিকে, এ ঘটনার দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে দায়ের করা আরেক রিটের শুনানির জন্য আগামী রোববার (১৭ আগস্ট) দিন ধার্য করেছেন বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের বেঞ্চ। রিটটি আদালতে উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট মীর একেএম নূরুন নবী। রিটে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তাকে অবৈধ ঘোষণা করার আবেদন জানানো হয়।
ভোলাগঞ্জ ও ‘সাদা পাথর’
সিলেট নগরী থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে ভারতের মেঘালয় পাহাড়ি ঝর্ণা থেকে উৎপন্ন ধলাই নদ ভোলাগঞ্জের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে। পাহাড়ি স্রোতের সঙ্গে ভেসে আসা সাদা পাথরের স্তুপ মিলে ধলাই নদের উৎসমুখ ‘ভোলাগঞ্জ জিরো পয়েন্ট’ গড়ে উঠেছে। একসময় অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য এ স্থানকে স্থানীয়রা ‘অনবদ্য ক্যানভাস’ বলতেন—যেখানে দুই পাশে সাদা পাথরের বিস্তার, মাঝ দিয়ে স্বচ্ছ নীল জল, আর পেছনে পাহাড় ও মেঘের আলিঙ্গন।
২০১২ সালের পর থেকে যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতির ফলে এই স্থানটি দ্রুত জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়। বর্তমানে সিলেট শহর থেকে মাত্র ৪০ মিনিটে পৌঁছানো যায় এখানে।
লুটের ঘটনা ও প্রশাসনিক ভূমিকা
গত ৫ আগস্ট থেকে বিরামহীনভাবে সাদা পাথর ও বালু লুট শুরু হয়। বিজিবির চারটি ক্যাম্প ও পোস্ট থাকা সত্ত্বেও এ লুট চলতে থাকে। গত সোমবার প্রশাসন অভিযান চালিয়ে পাথর বহনকারী নৌকা অকার্যকর করে দেয়, তবে এর আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়—নৌকা ও গর্ত খুঁড়ে পাথর তোলা হচ্ছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের স্থবিরতা ও অনীহাই এই লুটের সুযোগ তৈরি করেছে।
পরিবেশগত গুরুত্ব ও ক্ষতি
পরিবেশবিদ ইকবাল হাবিব জানান, এই সাদা পাথর প্রাকৃতিকভাবে নদীর তীব্র স্রোত ভেঙে তার গতি নিয়ন্ত্রণ করে, পানির মধ্যে অক্সিজেন মেশায় এবং পানির মান বজায় রাখে। পাথর সরিয়ে ফেললে পানি প্রবাহের তীব্রতা বেড়ে প্লাবন, ভাঙন এবং পানিদূষণ বাড়ে। এতে ওই অঞ্চলের বহু মানুষের খাবার পানির উৎসও হুমকির মুখে পড়ে।
তিনি সতর্ক করেন, এই প্রাকৃতিক সিস্টেম ভেঙে পড়লে শুধু নদী নয়, আশপাশের পুরো পরিবেশ দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।