
২৪-এর কোটা সংস্কার আন্দোলনের তুঙ্গ মুহূর্তে হঠাৎ করেই নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করা হয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি। অনেকের মতে, ছাত্র-জনতার দুর্বার আন্দোলনের গতিপথ ঘুরিয়ে দিতে এটি ছিল সরকারপক্ষের একটি কৌশলগত চাল।
২০২৪ সালের ৩২ জুলাই (যা ১ আগস্ট হিসেবে গণ্য) পুলিশের গুলিতে নিহত ছাত্রদের স্মরণে দেশে পালন হচ্ছিল ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচি। দেয়ালচিত্রে, ব্যানারে, প্রতিবাদে ফুটে উঠছিলো দ্রোহের আগুন। সেই শোককে শক্তিতে রূপ দিয়ে আরও জোরালো হচ্ছিল জনতার আওয়াজ। ঠিক সেই সময় শেখ হাসিনা সরকারের পক্ষ থেকে হঠাৎ ঘোষণা আসে— জামায়াত নিষিদ্ধ।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, “এই নিষেধাজ্ঞা ছিল একটি ফাঁদ। আমরা জানতাম ছাত্রদের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু আমরা সেই ফাঁদে পা দিইনি।”
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার মন্তব্য করেন, “আমাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি বহুদিনের। তবে সরকার এখন বুঝেছে, জামায়াতকে আর নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তাই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে জামায়াত ‘কার্ড’ কাজে না আসায় এই নিষেধাজ্ঞা সরকারকে কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. জিন্নাত আরা বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতকে বহুবার কৌশলগতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু এই আন্দোলনের সময় সেটি আর কাজ করেনি।”
পরবর্তীতে রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে দলটি পুনরায় নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পেলেও, বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত ভবিষ্যতেও থাকবে রাজনৈতিক কৌশলের ‘গুটি’ হিসেবেই।