
কুড়িগ্রামের দুধকুমার নদে আজ রবিবার সকালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের মুখোমুখি হন স্থানীয়রা। নদীর গারুহারা ঘাট এলাকায় একটি কলাগাছের ভেলায় বাঁধা ছিল প্রায় ছয় বছর বয়সি এক শিশুর নিথর দেহ। মাথা খোলা, কিন্তু পুরো শরীর চাদর, মশারি ও পলিথিনে মোড়ানো। মৃতদেহের পাশে ছিল একটি পরিচয়পত্র ও একটি চিরকুট—যেখানে লেখা ছিল শিশুটির নাম, ঠিকানা এবং একটি ফোন নম্বর।
প্রথমে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় এক কলেজ শিক্ষার্থী ফারুক খানের। তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নদীতে ভাসতে থাকা ভেলাটি দেখে অনেকেই ভিড় জমান। কৌতূহলবশত তিনি মোবাইল নম্বরটিতে যোগাযোগ করলে ভারতের অনকু দাস নামের এক ব্যক্তি পরিচয় দেন শিশুটির মামা হিসেবে।
অনকু দাস জানান, শিশুটির নাম সুমীত দাস। সে ভারতের আসাম রাজ্যের ডেকাবঘাট লালবাড়ির বাসিন্দা। গত ১০ জুলাই সাপের কামড়ে শিশুটির মৃত্যু হয়। তারপর কিছু আধ্যাত্মিক বিশ্বাস ও ‘জীবন ফিরে আসতে পারে’—এই আশায় তাঁরা শিশুর মরদেহ কলাগাছের ভেলায় ভাসিয়ে দেন।
ভেলার গায়ে বাঁধা ছিল শিশুটির একটি ছবি এবং চিরকুটে লেখা নাম-ঠিকানা, যাতে বাবা-মায়ের নামও উল্লেখ ছিল: পিতা আকুমনি দাস, মাতা পদ্মা দাস।
এই ঘটনা স্থানীয়দের মনে গভীর বিস্ময় ও বেদনার সৃষ্টি করেছে। তবে মরদেহটি দেখতে পেলেও স্থানীয়রা সেটিকে আটকাননি—বরং আবারও নদীর স্রোতে ভাসিয়ে দেন।
যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “এটি খুবই বেদনাদায়ক ঘটনা। তবে ধর্মীয় ও সংস্কৃতিক দিক বিবেচনায় স্থানীয়রা লাশটি আর থামাননি।”
এ ঘটনা আবারও প্রশ্ন তোলে—আধ্যাত্মিক বিশ্বাস আর বাস্তবতার সীমারেখা কোথায়?