
বান্দরবানে মদপানকে কেন্দ্র করে এক হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। বন্ধুত্বের আড়ালে লুকিয়ে ছিল মৃত্যু—মদপানের পর তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে প্রাণ গেল উসাইশৈ মারমার।
রোববার, ২৭ জুলাই দুপুরে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার আলেক্ষ্যং ইউনিয়নের তারাছা খালের বেক্ষ্যং ওয়াব্রাক্রী এলাকা থেকে উসাইশৈ মারমা নামের ১৮ বছর বয়সী এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।পউসাইশৈ, নোয়াপতং ইউনিয়নের খক্ষ্যং হেডম্যান পাড়ার বাসিন্দা এবং শৈশৈ নু মারমার ছেলে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে তিন বন্ধু—উসাইশৈ, হ্লাথোয়াই মারমা ও উনুপ্রু মারমা—একসঙ্গে মদপান করে।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মদ ও উত্তেজনায় শুরু হয় তুমুল বাগ্বিতণ্ডা। এক পর্যায়ে উসাইশৈকে সিঁড়ি থেকে লাথি মেরে ফেলে দেওয়া হয়। কিন্তু এখানেই শেষ নয়! মাথায় পাথরের আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে বন্ধুরাই—এরপর মরদেহটি খালে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।
দুই দিন ধরে খোঁজাখুঁজির পর স্থানীয়রা খালের পানি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেয়।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ হ্লাথোয়াই মারমা (৩৫) ও উনুপ্রু মারমা (২৬) কে গ্রেফতার করেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আলেক্ষ্যং ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বনাথ তংচঙ্গ্যা বলেন, “মদপান ও কথাকাটাকাটির জেরেই এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। বন্ধু বন্ধুকে হত্যা করেছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল করিম জানান, “ঘটনার তদন্ত চলছে, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বন্ধুত্বের মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক নির্মম খুনির রূপ। এ ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—নেশা, রাগ এবং অস্থিরতা কখনোই কারো বন্ধু হতে পারে না।