
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক কমাতে তৃতীয় দফা আলোচনায় অংশ নিতে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সোমবার (২৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা দেবে। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের নেতৃত্বে এ দলে থাকছেন নিরাপত্তা উপদেষ্টা, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুবুর রহমান রোববার (২৭ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যের শুল্ক হার কমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াশিংটনে ইউএসটিআরের অফিসে ২৯ ও ৩০ জুলাই বৈঠক হবে। সম্ভব হলে ৩১ জুলাই আরও একটি বৈঠক হতে পারে।”
তিনি জানান, রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ চুক্তির খসড়া পাওয়ার পর একাধিক দফায় আলোচনার মাধ্যমে ২৩ জুলাই চূড়ান্ত অবস্থান জানানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক হার কমবে, যা ভারতের কিংবা ভিয়েতনামের তুলনায় সুবিধাজনক হবে।
এদিকে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, তুলা এবং বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনার কথাও জানান বাণিজ্য সচিব। তিনি বলেন, “সরকার ২৫টি বোয়িংয়ের অর্ডার দিয়েছে। এর আগেও ১৪টি অর্ডার ছিল। এবার রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ ইস্যুকে মাথায় রেখেই অর্ডার বাড়ানো হয়েছে।”
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ওপর গম আমদানিতে নির্ভরতা বাড়ছে বলে জানান সচিব। এ ছাড়া তুলা ও সয়াবিন তেল আমদানির বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
চীনের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রসঙ্গে সচিব বলেন, “ব্যবসায়িক বাস্তবতা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমরা যদি সুবিধাজনক কোনো দেশ থেকে পণ্য আনি, তাতে চীনের সঙ্গে টানাপোড়েন হওয়ার কথা নয়।”
তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এখন রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ নীতিতে যাচ্ছে, কারণ তারা বৈশ্বিকভাবে ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতিতে রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই তারা দ্বিপাক্ষিকভাবে শুল্ক সমন্বয়ে আগ্রহী।”
অবশেষে, তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানির ফলে দেশের বাজারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। ব্যবসায়ীরাই নিজস্ব সুবিধা বিবেচনায় এসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।”