মানচিত্রে নেই দেশ’র অস্তিত্ব, কিন্তু “দূতাবাস” আছে ভারতে

dc011750 6865 11f0 89ea 4d6f9851f623.jpg 1

ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে কয়েক বছর ধরে গোপনে চালানো হচ্ছিল একটি ভুয়া দূতাবাস। বিশ্ব মানচিত্রে নাম নেই এমন দেশের নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করছিলেন হর্ষবর্ধন জৈন নামে এক ব্যক্তি।

পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ, গাজিয়াবাদের কবি নগরে একটি ভাড়া বাড়িকে দূতাবাসের রূপ দিয়ে প্রতারণা করে যাচ্ছিলেন ওই ব্যক্তি। ওয়েস্টার্কটিকা, সাবোরগা, পলভিয়া, লোডোনিয়া—এই ধরনের কাল্পনিক দেশগুলোর নাম ব্যবহার করে নিজেকে রাষ্ট্রদূত বা কনসাল বলে পরিচয় দিতেন তিনি।

এইসব মাইক্রোকান্ট্রি আসলে বাস্তবে কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত দেশ নয়। তবে প্রতারক ব্যক্তি এসব নামের সাথে মিলে যাওয়া পতাকা, সিলমোহর, গাড়ির নম্বর প্লেট এমনকি অবৈধ পাসপোর্টও তৈরি করিয়েছিলেন।

এসটিএফ জানিয়েছে, অভিযুক্তের কাছ থেকে পাওয়া গেছে চারটি ভুয়া নম্বর প্লেটযুক্ত গাড়ি, ১২টি অবৈধ পাসপোর্ট, দুটি জাল প্যান কার্ড, ৩৪টি দেশের নামে সিলমোহর, দুইটি প্রেস কার্ড, নগদ প্রায় ৪৫ লাখ টাকা,
বিভিন্ন দেশের মুদ্রা এবং হাওয়ালার মাধ্যমে টাকার লেনদেন সংক্রান্ত নথিপত্র।

ধারণা করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সংযোগ রয়েছে এমন ভুয়া দাবি কর বিদেশে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন তিনি। অনেক পরিচিত ব্যক্তির ছবি মর্ফ করে নিজের প্রভাবশালী পরিচিতি প্রমাণের চেষ্টা করতেন।

জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির অতীতে প্রতারণার রেকর্ডও রয়েছে। ২০১১ সালে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয় যেখানে স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহারের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গোটা এলাকার বাসিন্দারা বুঝতেই পারেননি যে বাড়ির ভেতরে একটি ভুয়া দূতাবাস চালানো হচ্ছিল। গাড়ির বহর, পতাকা আর নিস্তব্ধ পরিবেশ দেখে তারা ভেবেছিলেন, এখানে কোনো উচ্চপদস্থ কূটনীতিক থাকেন।

এদিকে, যেসব দেশের নাম ব্যবহার করে প্রতারণা চালানো হচ্ছিল তার মধ্যে অন্যতম হলো “ওয়েস্টার্কটিকা”। এই দেশটি বাস্তবে অস্তিত্বহীন। ২০০১ সালে ট্র্যাভিস ম্যাকহেনরি নামের এক মার্কিন কর্মকর্তা এটি প্রতিষ্ঠার দাবি করেন, এবং একটি অলাভজনক সংগঠনের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে কাজ করেন বলে দাবি করা হয়।

ওয়েস্টার্কটিকার একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ‘অনারারি কনসাল’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও রাষ্ট্রদূতের ক্ষমতা ছিল না, এবং তিনি তাদের নীতিমালাও লঙ্ঘন করেছেন। তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেই সংস্থাটি।

এই ঘটনা সামনে আসার পর, ভারতজুড়ে আলোচনার ঝড় বয়ে গেছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর এবং সহজে প্রতারণা চালানোর সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।