
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিস্ফোরক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে শেখ হাসিনার শাসনামলের শেষ মুহূর্তের এক ভয়াবহ চিত্র। ‘হাসিনা: জুলাইয়ের ৩৬ দিন’ শিরোনামের এই অনুসন্ধানী প্রামাণ্যচিত্রে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সরাসরি প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনার গোপন নির্দেশনা রেকর্ড করেছে তাঁর আমলেরই একটি গোয়েন্দা সংস্থা। সেই সংস্থার ফাঁস করা একটি অডিও ক্লিপে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়— “আমার নির্দেশ তো আগেই দেয়া হয়ে গেছে। আমি তো পুরোপুরি ওপেন অর্ডার দিয়ে দিয়েছি। এখন ওরা মারবে, যেখানে পাবে সেখানে গুলি করবে।”
আল জাজিরার ভাষ্যমতে, আন্দোলন দমন করতে হেলিকপ্টার থেকেও গুলিবর্ষণের নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। আরেকটি রেকর্ডিংয়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “যেখানে তারা কোনো জটলা দেখছে, সেটা উপর থেকে— এখন তো উপর থেকেই হচ্ছে, এরই মধ্যে কয়েক জায়গায় শুরু হয়ে গেছে।”
এই অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠা ছাত্র আবু সাঈদের নির্মম হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে তার পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাঁচবার পরিবর্তন করা হয়। এক চিকিৎসকের বরাতে বলা হয়েছে, পুলিশের মনমতো না হওয়ায় তাকে বারবার রিপোর্ট বদলাতে বাধ্য করা হয়। এমনকি শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে ফোনে রিপোর্ট সংগ্রহের নির্দেশ দিতেও শোনা গেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবু সাঈদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় চাপে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করানো হয়। হত্যাকাণ্ডের পর পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল এবং রাষ্ট্রের চাপের মুখে তারা সাক্ষাতে বাধ্য হয়। মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ ঢাকতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে কাতারভিত্তিক এই সংবাদমাধ্যমটি।
তবে এখানেই শেষ নয়। অনুসন্ধানে আরও প্রকাশ পায়, আন্দোলনের ভয়াবহতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। তিন সপ্তাহব্যাপী সেই আন্দোলনে প্রায় ১৫শ’ জন নিহত এবং ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হন। আর নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর ছোড়া হয় ৩০ লাখেরও বেশি রাউন্ড গুলি।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশি-বিদেশি রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা এবং ব্যাপক সমালোচনা।