বিএনপিকে ডোবাচ্ছে মন্ত্রীদের স্বজনপ্রীতি

new bnp 20260213034134

 

মায়ের গর্ভে দশ মাস দশ দিন পর সন্তানের জন্ম—এটি যেমন স্বাভাবিক নিয়ম, তেমনি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম একশ দিনকে একটি স্বস্তিকর সময় বা ‘হানিমুন পিরিয়ড’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই সময় সরকারকে কিছুটা সুযোগ দেওয়া হয় নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, সেই স্বাভাবিক সময়টুকুও যেন কেউ দিতে রাজি নয়। যেমন চিকিৎসা খাতে অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের আগেই সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়া হচ্ছে, তেমনি নতুন সরকারকেও শুরুতেই নানা চাপ ও আন্দোলনের মুখে পড়তে হচ্ছে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ক্ষমতাসীন ও বিরোধী—উভয় পক্ষই সময়কে নিজেদের মতো কাজে লাগাতে তৎপর। বিরোধী দল সরকারকে কঠোর সমালোচনায় ফেলছে, আর সরকারের ভেতরেও কিছু মন্ত্রী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দ্রুত নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়ে রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

জাতীয় সংসদের কার্যক্রমেও জনস্বার্থের আলোচনার চেয়ে দলীয় অবস্থান ও ব্যক্তিগত স্বার্থের টানাপোড়েনই বেশি দৃশ্যমান। এর মধ্যেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিয়ে গঠিত নতুন অ্যাডহক কমিটি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। বিশেষ করে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে এক সংসদ সদস্যের “বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড” মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সমালোচকদের দাবি, এই কমিটি গঠনে স্বজনপ্রীতির প্রভাব স্পষ্ট। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পূর্ববর্তী অনিয়ম সংশোধনের অংশ হিসেবেই নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে, এমনকি ক্ষমতাসীন দলের ভেতরেও কিছু অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু বিরোধী দলের সমালোচনা নয়, সরকারের ভেতরের কিছু সিদ্ধান্ত ও আচরণও সংকটকে উসকে দিচ্ছে। বিশেষ করে স্বজনপ্রীতি বা বিতর্কিত নিয়োগের অভিযোগ সরকারকে বিব্রত করছে এবং এর দায় শেষ পর্যন্ত সরকারপ্রধানের ওপরই এসে পড়ছে।

অন্যদিকে, বিরোধী দলও সরকারকে চাপে রাখতে আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে। ফলে সরকার গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগজনক হতে পারে।

এ অবস্থায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সরকারপ্রধানকে দৃঢ় নেতৃত্ব প্রদর্শন করতে হবে এবং স্বজনপ্রীতি বা অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। একই সঙ্গে বিরোধী দলকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ স্থিতিশীল থাকে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে সরকারকে যেমন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোকেও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। অন্যথায় অল্প সময়ের মধ্যেই যে আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে, তা ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে রূপ নিতে পারে।