
বিতর্কিত ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে সমঝোতার জন্য রাতের আঁধারে গোপন বৈঠক হতো বলে দাবি করেছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। তিনি রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে জানান, শেখ হাসিনার কারামুক্তির আগ পর্যন্ত মাঝেমধ্যেই এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং সেগুলো সমন্বয় করতেন তৎকালীন ডিজিএফআই পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এ টি এম আমিন। তবে এসব বৈঠকে তিনি নিজে অংশ নেননি বলেও দাবি করেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
পল্টন থানার মানবপাচার মামলায় প্রথম দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল রোববার মাসুদ চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হয়। ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক মো. রায়হানুর রহমান সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।
এদিকে ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময়কার আরেক কর্মকর্তা, ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি দাবি করেন, ২০০৭-০৮ সালে তারেক রহমানের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং তার কারামুক্তির ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন।
গত ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়, যা আজ শেষ হওয়ার কথা। তাকে আবারও রিমান্ডে নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
শেখ হাসিনার শাসনামলে ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআই মহাপরিচালক থাকাকালে মামুন খালেদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ, রাজনীতিক ও সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সেনা কর্মকর্তাদের জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে দায়িত্ব পাওয়ার পর দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। যদিও জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদকালে ১/১১ সময় তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মাসুদ চৌধুরী বলেন, তারা বিএনপি ও জিয়া পরিবারের পক্ষে কাজ করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, ওয়ান-ইলেভেন সরকার গঠনের পেছনে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার পরিকল্পনা ছিল এবং ২০০৬ সাল থেকেই এ উদ্যোগ শুরু হয়।
এছাড়া বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর নামে ‘ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল’ নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে মাসুদের বিরুদ্ধে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে তিনি এখনো কিছু স্বীকার করেননি। তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারসহ একাধিক মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।
রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হতো এবং ব্যবসায়ীদের জিম্মি করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, এভাবে শত শত শ্রমিকের নামে কোটি কোটি টাকা আদায় করা হয় এবং অনেক শ্রমিককে বিদেশে পাঠিয়ে নির্যাতনের শিকার করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, আগের রিমান্ডে কিছু তথ্য পাওয়া গেলেও আসামি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এড়িয়ে গেছেন। বিশেষ করে অর্থ আত্মসাতের পদ্ধতি, সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর ভূমিকা এবং মালয়েশিয়ায় পাঠানো কর্মীদের প্রকৃত তথ্য জানতে তাকে পুনরায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।