৩০ জুলাই: কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ ও রাষ্ট্রীয় শোক দিবস

image 8

২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সহিংসতায় নিহতদের স্মরণে ৩০ জুলাই রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে সরকার। তবে এই সিদ্ধান্তের আগের দিনই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তা প্রত্যাখ্যান করে এবং পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী নিজেদের কর্মসূচি পালন করে।

শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদী কর্মসূচি:

  • মুখে ও চোখে লাল কাপড় বেঁধে একক ও দলীয়ভাবে ছবি তুলে তা অনলাইনে প্রচার করে শিক্ষার্থীরা।
  • অনেকেই ফেসবুকে লাল রঙের ফ্রেম ব্যবহার করে সংহতি জানান।
  • রাতেই ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ নামে পরদিন (৩১ জুলাই) দেশের সব আদালত, ক্যাম্পাস ও রাজপথে গণমিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়।

৯ দফা দাবির মুখ্য বিষয়:

  • নিহত ও আহতদের বিচার
  • গণহত্যা, গণগ্রেপ্তার, হামলা, মামলা, গুম ও বেআইনি হত্যার প্রতিবাদ
  • জাতিসংঘ কর্তৃক স্বাধীন তদন্তের দাবি

আদালতের মন্তব্য:

  • একই দিনে হাইকোর্টে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানো বন্ধে রিট শুনানিতে বিচারক বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাগুলো “সবার জন্যই দুঃখজনক”

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া:

  • ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাইরিপ্রেজেন্টেটিভ জোসেফ বোরেল বাংলাদেশে “শ্যুট অন সাইট” নির্দেশ এবং বেআইনি হত্যার তীব্র নিন্দা জানান।

সরকারি প্রতিক্রিয়া:

  • সরকারিভাবে নিহতের সংখ্যা ১৫০ জন বলে জানানো হয়।
  • সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মেয়র, পুলিশ ও আনসারদের ওপর হামলা হয়েছিল, ফলে “জীবন রক্ষার্থে গুলি চালানো হয়েছে”।
  • তবে তদন্তের মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু হলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

বিক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজের পদক্ষেপ:

  • টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ডিবিতে আটক ছয় সমন্বয়কসহ অন্যদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত মুক্তির আলটিমেটাম দেন।
  • তবে ডিএমপির ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, এখনো তাদের ছাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসেনি।

এই দিনটি শুধু শোক ও স্মৃতিচারণার নয়, বরং একটি চলমান অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তিশালী দিন হয়ে উঠেছিল—যেখানে রাষ্ট্রীয় নীতি, বিচার, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং ছাত্র সমাজের দৃঢ় অবস্থান সবকিছুই মিলেমিশে এক অনন্য অধ্যায় রচনা করে।