

এক ভিন্ন রকমের পহেলা বৈশাখ দেখল ঢাকাবাসী। শত শত মানুষের অংশগ্রহণে রেহাল লাঙ্গল শাপলা তসবিহ নিয়ে রাজধানীর বুকে বৈশাখ পালন করেছে জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (জাসাক)।
পহেলা বৈশাখ মানেই মূর্তি ড্রাগন আর নানা রকমের রংয়ের দৃশ্য দেখা যেত দেশজুড়ে। সেই ধারায় ছেদ পড়লো এবার। পরিবর্তিত বাংলাদেশে প্রথম বৈশাখে বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অসংখ্য প্রতীক দেখা গেলো বিভিন্ন র্যালিতে।
ঘোমটা দেওয়া রিকশা ছিল এক সময় বাংলার পথে পথে নিয়মিত দৃশ্য। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে অভিজাত বাঙালি নারীদের পর্দায় ঢেকে বাইরে পাঠাতো পরিবার।
জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আয়োজনে সবার সামনে ছিল ঘোমটা দেওয়া রিকশা। বাঙলা নবযাত্রা ১৪৩২ নামের র্যালিতে আরও ছিল প্রতীকী লাঙল, রেহাল, শাপলা, তাসবিহ। সবার হাতে হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড। প্ল্যাকার্ডে লেখা, “বাংলাদেশের মুসলিম আমি বাঙালি মুসলমান”, ” আমাদের নববর্ষে আমাদের সংস্কৃতি”, ” আমরাই বাঙালি আমরাই বাংলাদেশ” ইত্যাদি স্লোগান। র্যালিটি মুক্তাঙ্গন থেকে যাত্রা করে মৎস ভবন ও শাহবাগ হয়ে টিএসসি ঘুরে শিল্পকলায় এসে শেষ হয়।

নতুন আঙ্গিকে বৈশাখ উদযাপন দেখে টিএসসিতে অবস্থানরত সাংবাদিকরা ঘিরে ধরলে কথা বলেন জাসাকের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক কবি মুহিব খান।
এসময় তার পাশে জাসাকের সাধারণ সম্পাদক কাউসার আহমেদ সোহাইলসহ আরও অনেক কবি, সাহিত্যিক ও সাধারণ জনতা উপস্থিত ছিলেন।
কবি মুহিব খান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমরা বাঙালির সত্যিকারের সংস্কৃতি তুলে ধরতে এখানে এসেছি। একসময় হিন্দু ও মুসলিম অভিজাত নারীরা পর্দায় ঢাকা রিকশা-পাল্কিতে চড়ে বাড়ির বাইরে যেতেন। এটা ছিল সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক। আমরা নারীদের সম্মান ও মর্যাদার সেই প্রতীক নিয়ে বৈশাখ উদযাপন করছি।’
জাসাকের ভিন্ন রকম বৈশাখ উদযাপন আগ্রহী করে তুলেছে আশেপাশের সবাইকে।
