জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা হচ্ছে : নাহিদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সাদিক কায়েম

WhatsApp Image 2025 07 31 at 19.35.53 41e0e514

ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রকাশনা সম্পাদক আবু সাদিক কায়েম সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ফেসবুক পোস্টের জবাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে তাঁর ভূমিকা খাটো করে দেখানোর অপচেষ্টা শুধু হতাশাজনকই নয়, বরং আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এক বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

সাদিক কায়েম জানান, ১৯ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত মূল দায়িত্বশীলরা অনুপস্থিত থাকায় সেই সময় তিনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার সুযোগ পান। এ সময়কার কিছু বাস্তব ঘটনা তিনি বিভিন্ন আলাপে উল্লেখ করেছেন।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি নিজেকে কোনো নেতা বা পদ-পদবির দাবিদার হিসেবে কখনও দাবি করেননি। তবে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, কারফিউ ও দমন-পীড়নের কঠিন সময়েও আন্দোলনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে তিনি ও তাঁর সহযোদ্ধারা সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন।

popup 10

সাদিক কায়েম বলেন, “আমার প্রতিটি বক্তব্যেই আমি বারবার বলেছি—এই আন্দোলনের প্রকৃত নায়ক হলেন শহিদ ও গাজীরা। তাঁদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি বাংলাদেশ পেয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লব ছিল দেশের সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণ। সকল রাজনৈতিক মত ও ব্যক্তিগত বিভেদ পেছনে ফেলে সবাই মিলেই একটি লক্ষ্যে একত্র হয়েছিল—ফ্যাসিবাদকে বিদায় জানানো।

খুনি হাসিনা দেশ ছাড়ার পর যারা সরকার গঠন বা সমন্বয়কের পরিচয়ে সুবিধা নিতে চেয়েছে, তাদের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “আমি কোথাও ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে কিছু দখল করেছি—এমন একটি প্রমাণও কেউ দেখাতে পারবে না।”

আন্দোলনের কঠিন সেই সময়ের কাজ নিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের প্রথম সারির সমন্বয়কারীরা অনুপস্থিত থাকায়, ৯ দফা দাবির খসড়া তৈরি, দ্বিতীয় সারির নেতৃত্বের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মিডিয়ায় দাবিগুলো পৌঁছে দেওয়া এবং দেশি-বিদেশি অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়—সব কাজ করতে হয়েছে আমাকে।

শেষে তিনি বলেন, “এই ঘটনাগুলো সামনে না এলে ইতিহাস বিকৃত হবে। অনেক ঘটনা আছে যা জানা প্রয়োজন। আমরা চাই জাতি সত্য জানুক। ৫ আগস্টের পর দেখা গেছে, যারা ১৯ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত আত্মগোপনে ছিল, কেউ ‘গুম’ নাটক সাজিয়েছিল, কেউ আন্দোলনকে ম্যানেজ করে ক্যাম্পাস খোলার চেষ্টা করেছিল, তারা পরবর্তীতে নিজেকে ‘মহাবিপ্লবী’ হিসেবে উপস্থাপন করছে। এটি ইতিহাসের প্রতি অবিচার।”