জামায়াত-এনসিপি ক্ষমতায় আসতে পারবে না: মাসুদ কামাল

1754636608Z4eeOgnI

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল মন্তব্য করেছেন, আসন্ন নির্বাচনে জামায়াত ও এনসিপির ক্ষমতায় যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে অন্তত ৯০% চাঁদাবাজি বিএনপির নিয়ন্ত্রণে থাকলেও প্রশাসনে জামায়াত এগিয়ে আছে। প্রশাসনে বিএনপি ও জামায়াত প্রায় সমান প্রভাবশালী, আর এনসিপি তদবিরের মাধ্যমে ধীরে ধীরে অবস্থান শক্ত করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিভিন্ন পদ ও জায়গা দখল করে রেখেছে জামায়াত-বিএনপি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—বিএনপি ক্ষমতায় এলে কি জামায়াতের কেউ থাকবে? অথবা এনসিপির কেউ কি সচিবালয়ে গিয়ে ধমক দিতে পারবে? তার মতে, এখন যে সুবিধা ও দাপট তারা উপভোগ করছে, সেটা তখন আর থাকবে না। বর্তমানে জামায়াতের কিছু ভিত্তি আছে—দল, নেতা, সংগঠন—কিন্তু এনসিপির মূল সম্পদ শুধু ড. ইউনূস। এখন ইউনূস ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে শুনেই যেন শোকে পাথর হয়ে গেছেন।

মাসুদ কামাল বলেন, সাংবাদিকরা সচিবালয়ে সহজে ঢুকতে না পারলেও এনসিপির কর্মী ও বৈষম্যবিরোধী সংগঠনের লোকজন সেখানে প্রবেশ করতে পারে। তারা ভেতরে কী করে, যাতে কেউ জানাতে না পারে—এজন্য অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল হয়ে গেছে। তার মতে, এনসিপি ও জামায়াতের মনস্তত্ত্ব বোঝা জরুরি, কারণ যত সময়ই লাগুক, তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখনো তাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় পাঠানোর মতো মানসিকতায় পৌঁছায়নি।

তিনি যোগ করেন, তবুও তারা এখন ক্ষমতার স্বাদ নিচ্ছে—জামায়াত, এনসিপি, এমনকি বিএনপিও। এই সুযোগে তারা বিভিন্ন জায়গায় প্রভাব বিস্তার করছে; উদাহরণস্বরূপ, কাল টিএসসিতে যুদ্ধাপরাধীদের ছবি টাঙানোর সাহসও দেখিয়েছে তারা। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এলে কি এই স্বাদ তারা পাবে? তার মতে, যত পদে, যত জায়গায় প্রভাব আছে—বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পদ পর্যন্ত—সব বদলে যাবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিও মার্চে বদলানো হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

এখন যে প্রোটেকশন জামায়াত ও এনসিপি সরকারি মহল থেকে পাচ্ছে, নতুন সরকার এলে তা আর পাবে না। বাস্তবতা হলো, তিন দলই—জামায়াত, এনসিপি ও বিএনপি—বর্তমানে ক্ষমতার স্বাদ নিচ্ছে, কিন্তু এই অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী হবে না।