
ইফতেখার হোসাইন, প্রতিবেদক :
ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের মানা গ্রামে এক ভয়াবহ তুষারধসে আটকে পড়া ৪৬ জন নির্মাণ শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তারা ৩৬ ঘণ্টা ধরে ধাতব কন্টেইনারের ভেতরে আটকে ছিলেন।
ভারতীয় সেনাবাহিনী ও ইন্দো-তিব্বতীয় সীমান্ত পুলিশ (ITBP) গত শুক্রবার তুষারধসের পর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে শ্রমিকদের উদ্ধার করে। তবে ৮ জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের বেশিরভাগই সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে কর্মরত অভিবাসী শ্রমিক। খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাঁবুর পরিবর্তে তারা ধাতব কন্টেইনারে আশ্রয় নিয়েছিলেন, যা তাদের জীবন রক্ষা করেছে।
উত্তরাখণ্ডের প্রতিরক্ষা মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনীশ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, “তুষারের নিচে চাপা পড়া মানুষের চেয়ে ধাতব কন্টেইনার খুঁজে বের করাটা সহজ ছিল, যা উদ্ধার কাজে সাহায্য করেছে।”

ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রকাশিত ছবিতে বরফে ঢেকে যাওয়া আংশিক বিধ্বস্ত কন্টেইনারের পাশে উদ্ধারকর্মীদের স্নিফার ডগ নিয়ে কাজ করতে দেখা গেছে।
হিমালয়ে তুষারধস ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
হিমালয়ের অঞ্চলে শীতকালে তুষারধস ও ভূমিধসের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ধরনের দুর্যোগ আরও তীব্র ও অপ্রত্যাশিত হয়ে উঠছে।
আন্তর্জাতিক পার্বত্য উন্নয়ন কেন্দ্রের (ICIMOD) ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের তুলনায় ২০২০ সালে হিমবাহ গলনের হার ৬৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০২১ সালে একটি হিমবাহের অংশ ধসে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করেছিল, যাতে ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং একটি বাঁধ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে হিমবাহ গলার কারণে বন্যা, ভূমিধস এবং তুষারধসের ঝুঁকি বাড়ছে, যা হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
/হ্যাভেন টিভি ডট প্রেস
