
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এক ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) হওয়া এই আলোচনায় দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন। ফোনালাপে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, যুদ্ধ এড়াতে যে কোনো উদ্যোগ বা কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে তেহরান স্বাগত জানাবে।
আলোচনার একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল সৌদি আরবের স্পষ্ট অবস্থান। রিয়াদ ইরানকে আশ্বস্ত করেছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কোনো হামলায় সৌদি আরবের ভূমি বা আকাশসীমা কোনো পক্ষকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এতে বোঝা যায়, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী রিয়াদ।
সৌদি আরবের এই ভূমিকার প্রশংসা করে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়াই বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ ও যুদ্ধের হুমকি মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর উপায়। ফোনালাপে দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, সৌদি আরব ও ইরানের এই কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আকাশসীমা ব্যবহারে রিয়াদের অস্বীকৃতি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ ও সমঝোতার পথকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাই দিচ্ছে। আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স।