
যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার প্রস্তুতি: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি
মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ইরানে হামলা চালাতে পারে। তবে এই সময়সীমা পরিবর্তনও হতে পারে। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ‘বিশাল নৌবহর’ প্রেরণের ঘোষণা দেন। এর অংশ হিসেবে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং তার সহায়ক যুদ্ধজাহাজগুলো ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছেছে।
মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যেই এই নৌবহর মোতায়েন করা হয়েছে। কিন্তু বিমানবাহী রণতরী ও যুদ্ধজাহাজের আগমন ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করা হতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।
এমতাবস্থায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সংহতির গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস সতর্ক করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য কোনো প্রতিবেশী দেশের ভূমি, আকাশ বা জলসীমা ব্যবহার করা হলে তাদের শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে। পাশাপাশি, যদি মার্কিন নৌবহর ইরানের জলসীমায় প্রবেশ করে, তবে তা লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এছাড়া, হিজবুল্লাহও সতর্ক করেছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হলে তারা নীরব থাকবে না এবং সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে কোনো হুমকিকে নিজেদের বিরুদ্ধেই হুমকি হিসেবে গণ্য করবে। অন্যদিকে, তুরস্ক ইরান থেকে সরকার পতনের সম্ভাবনা বিবেচনা করে সীমান্তে ‘বাফার জোন’ তৈরি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আঙ্কারা আশঙ্কা করছে, ইরানে সরকার পতনের পর কোনো শরণার্থী যেন তুরস্কে প্রবেশ করতে না পারে।
সংক্ষেপে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবহরের উপস্থিতি, ইরানের প্রতিরক্ষা সতর্কতা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রস্তুতি চলমান উত্তেজনার কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।