শোকের দিনে খাসি জবাই করে ভূরিভোজ, ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ

image 10

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে। একই সময় আনন্দ উৎসব এবং ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন সীমিত করে পালনের নির্দেশও দেওয়া হয়।

কিন্তু কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানার ওসি সোয়েল রানা শোকের দিনে খাসি জবাই করে ভূরিভোজ আয়োজন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) পুলিশের কিছু কর্মকর্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এই আয়োজনের ছবি পোস্ট করেন। এসআই ফাইসাল তার প্রফাইলে খাসি কাটার ছবি দিয়ে লিখেন, “২০২৬ সালকে বরণ করতে প্রস্তুতি চলছে।” অন্য একটি ছবিতে থানার ওসি ও এসআই ইব্রাহিমের খাবারের ছবি পোস্ট করা হয়, যেখানে লেখা থাকে—“কচাকাটা থানার অফিসার্স ইনচার্জ মহোদয়।” একই ধরনের পোস্ট দিতে দেখা যায় আরও একজন কনস্টেবলকে।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এই ঘটনায় নিন্দা জানাচ্ছেন। স্থানীয় জাতীয় পার্টির ১৫–২০ নেতাকর্মীর সঙ্গে ওসির ঘণ্টাব্যাপী আলোচনার পাশাপাশি মিষ্টি বিতরণও করা হয়। জানা যায়, স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতা মিষ্টি নিয়ে ওসির সঙ্গে দেখা করতে আসেন, যা পরে বিতরণ করা হয়।

স্থানীয় ছাত্রদলের নেতারা থানায় গিয়ে প্রতিবাদও করেন। বল্লভেরখাষ ইউনিয়নের ছাত্রদল সভাপতি মাইদুল ইসলাম বলেন, “রাষ্ট্রীয় শোকের দিনে কচাকাটা থানায় খাসি জবাই করে ভূরিভোজ ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। আমরা তীব্রভাবে নিন্দা জানাচ্ছি।”

জাতীয় পার্টির কচাকাটা ইউনিয়নের নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদৎ হোসেন জানান, স্থানীয় প্রার্থীর গণসংযোগের কারণে আমরা ওসিকে অবহিত করতে গিয়েছিলাম। ওই সময়ে বলদিয়া ইউনিয়নের নেতারা মিষ্টি নিয়ে আসছিলেন।

বিএনপির কেদার ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান বলেন, “দেশনেত্রীকে হারিয়ে সমগ্র দেশে মানুষ শোকাহত, অথচ কচাকাটা থানায় ওসিসহ কর্মকর্তারা ভূরিভোজ ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন। এটি নিন্দনীয়।”

অন্যদিকে কচাকাটা থানার ওসি সোয়েল রানা দাবি করেন, “থানায় কোনো পার্টি বা ভূরিভোজ আয়োজন করা হয়নি। আমাদের মেসে প্রতি মাসের শেষ দিনে খাবারের আয়োজন করা হয়ে থাকে। থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে কোনো আয়োজন হয়নি।”

সহকারী পুলিশ সুপার (ভূরুঙ্গামারী–কচাকাটা সার্কেল) মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”