বিএনপি মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র ইকবাল

image 249

কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী–বাজিতপুর) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার শহীদুল ইসলামের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, গত ২৫ বছর ধরে তিনি বাজিতপুর ও নিকলী উপজেলার বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে তিনি নিজেকে জনসেবায় নিয়োজিত রেখেছেন। এ ধারাবাহিকতায় প্রথম দফায় দল তাকে মনোনয়ন দিলেও পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করা হয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “মাত্র দুদিন আগে নিজের বাবার দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া সৈয়দ এহসানুল হুদাকে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়া হয়েছে, যা বাজিতপুর–নিকলীর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পারেননি। এ কারণেই বাধ্য হয়ে আমাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হয়েছে।”

ইকবাল আরও বলেন, এই আসনের জনগণের প্রতি তার দায়বদ্ধতা বহুদিনের। নির্বাচিত হলে তিনি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে বাস্তবভিত্তিক পরিবর্তন আনতে কাজ করবেন। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধ, বেকারত্ব হ্রাস, কৃষি সংকট নিরসন ও মাদক নির্মূলে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে এবং একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখবে। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা প্রত্যাশা করেন এবং স্থানীয় জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।

মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় বাজিতপুর ও নিকলী উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ৪ ডিসেম্বর বিএনপি কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী–বাজিতপুর) আসনে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা তার দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিলে ২৪ ডিসেম্বর তাকে একই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়। মনোনয়ন পরিবর্তনের প্রতিবাদে গত কয়েকদিন ধরে নিকলী–বাজিতপুর এলাকায় ইকবালের সমর্থকেরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন বহাল না থাকায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন।