বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বিষয়ক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে: প্রধান উপদেষ্টা

image 171

ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি এই তথ্য জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জাতীয় নেত্রী, দেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। বিষয়টি আমাদের সকলের জন্যই উদ্বেগজনক।”

তিনি আরও বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার বেগম জিয়ার অসুস্থতার বিষয়টি শুরু থেকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতি তার অঙ্গীকার, দেশের উন্নয়নে তার অবদান এবং জনগণের তার প্রতি শ্রদ্ধা বিবেচনায় সরকার ইতিমধ্যেই তাকে রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছে।”

সরকারের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পরিবারের ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা জানান, “দেশে চিকিৎসা সহ প্রয়োজনে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা সম্পর্কেও সব বিষয় বিবেচনায় রাখা হয়েছে।”

দায়িত্ব গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকার তিনটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার, একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উত্তরণের জন্য রাষ্ট্রকাঠামোর প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন—এই তিনটি বিষয় সরকার প্রধান গুরুত্ব দিয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্দেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যেই ট্রাইব্যুনাল একটি মামলার রায় ঘোষণা করেছে।”

তিনি আরও জানান, “ট্রাইব্যুনাল স্বাধীন ও স্বচ্ছ প্রমাণভিত্তিক বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের ওপর নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের প্রধান নির্দেশদাতা হিসেবে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধান শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। অভ্যুত্থানের পর পলাতক থাকা শেখ হাসিনা এবং এই মামলার সাজাপ্রাপ্ত অপর আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে।”