একাত্তরের স্বপ্নের রাষ্ট্র এখনো পূরণ হয়নি: তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা

image 166

তথ্য ও সম্প্রচার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ৫৪ বছর পরও যদি গণ-অভ্যুত্থানের প্রয়োজন হয়, তাহলে তা স্পষ্ট করে দেয় যে একাত্তরের যে স্বপ্ন ও প্রত্যাশা ছিল, রাষ্ট্র এখনো তা পূরণ করতে পারেনি।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে উঠবে বলে সরকার আশাবাদী। এই ভিত্তি যেমন গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করবে, তেমনি জনগণের কাছে সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনবে। তিনি বলেন, বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার যে স্বপ্ন এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে যাত্রা শুরু করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার গণতন্ত্রের পথে একটি দৃঢ় অগ্রযাত্রার প্রত্যাশা করছে। তিনি জানান, এই নির্বাচন শুধু ভোটগ্রহণ নয়, বরং এক ধরনের গণভোটও হবে, যেখানে সংস্কার ইস্যুতে জনগণ তাদের মতামত জানাতে পারবে। জনগণের সেই মতামতের ওপর ভিত্তি করেই গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা নতুন রূপ নিতে পারে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষকে দমন করতে যুক্তি ও তর্কের পরিবর্তে হত্যাচেষ্টা বা সহিংসতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও কাপুরুষোচিত। এতে কোনো বীরত্ব নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, শক্তি থাকলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের মুখোমুখি হতে হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার যে সহিংস সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, নতুন বাংলাদেশে তার কোনো স্থান নেই।

জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির ব্যক্তিদের নিরাপত্তা দিতে সরকার ব্যর্থ কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, এক বা দেড় বছরের সরকারের সফলতা বা ব্যর্থতা ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা উচিত। তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার সময় রাষ্ট্র ছিল ভেঙে পড়া অবস্থায়। সেই পরিস্থিতি সামাল দিয়ে রাষ্ট্রকে আবার চলার পথে ফিরিয়ে আনাই ছিল সরকারের প্রধান কাজ।

তিনি বলেন, এই সরকার তখনই সফল বলা যাবে, যখন একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন হবে, বিচার ও সংস্কার প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হবে এবং সরকারের ঘোষিত লক্ষ্যগুলো অর্জিত হবে।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রিজওয়ানা হাসান বলেন, স্বাভাবিক নিরাপত্তা প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিকের চেয়েও বাড়তি ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। কারণ প্রতিপক্ষ আরও সংগঠিত হয়ে পেছন দিক থেকে আঘাত হানছে। এ জন্য নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে।

নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও স্বতঃস্ফূর্ত নির্বাচন নিশ্চিত করা। তবে এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি শক্তি সক্রিয় রয়েছে, যাদের প্রতিহত করার পাশাপাশি প্রতিরোধও গড়ে তুলতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সহিংস ও সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে জনগণের মধ্যে ভয় ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সরকারের দায়িত্ব জনগণকে আশ্বস্ত করা, যাতে ভয়ের পরিবেশ তৈরি না হয়। সে লক্ষ্যেই সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।