
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে গজারিয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় হোসেন্দী ইউনিয়নের জামালদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে গাড়ি ও একটি ব্যক্তিগত অফিস ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, এলাকাজুড়ে এখন থমথমে অবস্থা।
গত ৪ ডিসেম্বর বিএনপি দ্বিতীয় দফায় ৩৬টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে। এতে কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন মনোনয়ন পান। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মহিউদ্দিন আহমেদের সমর্থকরা। এরপর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
স্থানীয়রা জানান, বিকেল ৫টার দিকে মহিউদ্দিন গ্রুপের নেতাকর্মীরা মশাল মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। একই সময় রতন সমর্থকরাও সড়কের পাশে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ মুখোমুখি অবস্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষে আহত স্বাধীন (২৮) ও সাইদুল (২৫)কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। আর শিরিনা (৪৬), দেলোয়ার (৪৯), মোস্তফা (৪৮), সুজন (২৩), আসিফ (১৯) ও নয়ন (২৬) স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আলী হোসেন অভিযোগ করেন, তারা শান্তিপূর্ণ মশাল মিছিলের প্রস্তুতি নিতেই প্রতিপক্ষ হামলা চালায় এবং তার গাড়ি–অফিস ভাঙচুর করে। অপরদিকে রতন সমর্থকদের দাবি, আলী হোসেনের অফিস থেকেই আগে গুলি, ককটেল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার ওসি আনোয়ার আলম আজাদ জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এখন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে মহিউদ্দিন সমর্থকরা মুক্তারপুর সেতু দেড় ঘণ্টা অবরোধ করে রাখলে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।