মুমিনের আসল পরিচয় আল্লাহভীতি ও আত্মশুদ্ধি: মসজিদে নববীর জুমার খুতবা

image 407

আলহামদুলিল্লাহ, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই হামদ পাঠ করি, তাঁর কাছেই সাহায্য ও ইস্তিগফার চাই এবং নফসের অনিষ্ট ও মন্দ আমল থেকে তাঁরই কাছে পানাহ চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি বিপথগামী করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার শক্তি কারও নেই।

২৮ নভেম্বর ২০২৫ মসজিদে নববীতে জুমার খুতবা প্রদান করেন শায়খ ড. খালিদ ইবনে সুলাইমান ইবনে আবদুল্লাহ আল মুহান্না।

খুতবার শুরুতেই তিনি তাওহিদের সাক্ষ্য নবায়ন করেন—আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি এক ও অদ্বিতীয়; আর মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল।

তাকওয়ার নির্দেশ

তিনি কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করে বলেন—
হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে সেইভাবে ভয় করো, যেভাবে তাকে ভয় করা উচিত। আর মুসলিম না হয়ে মৃত্যু বরণ করো না।

আরেক আয়াত থেকে তিনি তুলে ধরেন—মানুষের সৃষ্টি, তাদের বংশধারা, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং আল্লাহর নজরদারি মানুষের জীবনে কত গভীরভাবে প্রভাব ফেলে।

তিনি আরও বলেন, সঠিক কথা বলা এবং তাকওয়া অবলম্বন করলে আল্লাহ বান্দার আমল সংশোধন করেন এবং গুনাহ ক্ষমা করেন। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যকারীরাই প্রকৃত সফলকাম।

আল্লাহর সীমাহীন রহমত

শায়খ বলেন, মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আল্লাহর রহমত তার ওপর বিরামহীনভাবে অব্যাহত থাকে। নানান নিয়ামতে পরিপূর্ণ এই জীবনকে তিনি সঠিক পথে পরিচালিত করেন—যাতে বান্দা পথভ্রষ্ট না হয় এবং আখিরাতে জাহান্নামমুখী না হয়।

ধৈর্যের মহত্ত্ব

তিনি উল্লেখ করেন, সবর এমন এক গুণ যা ইসলামের নৈতিকতার অন্যতম ভিত্তি। সবর হল নেক আমলের মূল, দুনিয়া–আখিরাতের কল্যাণের বীজ। জান্নাত লাভ ধৈর্যের সাথে সম্পর্কিত—ধৈর্যহীন কেউ সফল হতে পারে না।
ফেরেশতারা ধৈর্যশীলদের কাছে গিয়ে বলে—
“তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। তোমরা ধৈর্য ধরেছিলে, আর এ পরিণতি কতই না উত্তম!”

ইমাম সুফিয়ান ইবনে ওয়াইনা, মাইমুন ইবনে মেহরানসহ সালাফদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন—সবরের চেয়ে উত্তম কিছু বান্দাকে দেওয়া হয়নি। রিজিক টানা থেকে শুরু করে বিপদ মোকাবেলা—জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধৈর্য অপরিহার্য।

কুরআনে শতাধিক স্থানে আল্লাহ ধৈর্যের আদেশ করেছেন। তিনি বলেন—“আপনি ধৈর্য ধরুন, আর আপনার ধৈর্য আল্লাহর সাহায্যেই হয়।” ধৈর্যশীলদের আল্লাহ ভালোবাসেন এবং তাদেরকে বেহিসাব পুরস্কার দেবেন।

রাসূল (সা.)–এর শিক্ষা

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“মুমিনের প্রতিটি অবস্থায় কল্যাণ আছে।”
আরো বলেছেন—
“যার দুই প্রিয় জিনিস—চোখের দৃষ্টি—আমি কেড়ে নিই এবং সে ধৈর্য ধরে, আমি তাকে জান্নাত দান করব।”

তিনি বলেন, দুনিয়া পরীক্ষার ঘর এবং বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার দুর্গ হলো ধৈর্য। যে ধৈর্যে অবিচল থাকে, সে সফল হয় এবং জান্নাতের প্রতিশ্রুতি পায়।

শয়তান ও নফস মোকাবেলায় ধৈর্য

সবর প্রবৃত্তি দমন করে, নফস নিয়ন্ত্রণ করে এবং শয়তানের আক্রমণ প্রতিহত করে। নবী (সা.) বলেছেন—
“জান্নাতকে ঘিরে রাখা হয়েছে অপ্রিয় জিনিস দ্বারা, আর জাহান্নামকে ঘিরে রাখা হয়েছে লোভ ও প্রবৃত্তি দ্বারা।”

আল্লাহ বলেন—
“যদি তোমরা ধৈর্য ধরো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের ক্ষতি করতে পারবে না।”

সবমিলিয়ে ধৈর্য হল ঈমানের অর্ধেক, আর শুকর অপর অর্ধেক।

এরপর তিনি দোয়ার মাধ্যমে প্রথম অংশ শেষ করেন।

খুতবার দ্বিতীয় অংশ

দ্বিতীয় অংশে শায়খ বলেন—যাকে আল্লাহ ধৈর্যের তাওফিক দেন, তাকে তিনি সীমাহীন খায়র দান করেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“যে অভাবমুক্ত থাকার চেষ্টা করে, আল্লাহ তাকে অভাবমুক্ত করেন; যে ধৈর্য ধারণ করে, আল্লাহ তাকে ধৈর্য দান করেন। সবরের চেয়ে উত্তম কোনো নিয়ামত কাউকে দেওয়া হয়নি।”

পরিশেষে তিনি মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, ক্ষমা ও শক্তিশালী ঈমান কামনা করে দোয়া করেন।