আজকের রায়ের পরই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে কি না।

image 247

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফাঁসির দণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায় ঘোষণার পরই নতুন করে আলোচনায় এসেছে—ভারত কি তাকে বাংলাদেশে ফেরত দেবে?

ভারতের জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির দক্ষিণ এশীয় স্টাডিজের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত আল জাজিরাকে বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালতের রায় এক ধরনের প্রত্যাশিত বিষয় ছিল। তবে ভারত কোনো অবস্থাতেই শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করবে না। তার মতে, গত দেড় বছরে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক ভালো ছিল না, অনেক সময় তা ভঙ্গুর অবস্থায়ও ছিল—তাই প্রত্যর্পণের প্রশ্নই ওঠে না।

image 248

তিনি আরও জানান, হাসিনার মৃত্যুদণ্ড “প্রত্যাশিত” ছিল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার পর্যবেক্ষকরা মনে করেন যে ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া দেশের আইনি কাঠামো মেনেই পরিচালিত হয়েছে।
শ্রীরাধা দত্ত বলেন, “দেশের পরিস্থিতি সবাই দেখেছে। তার (হাসিনা) কঠোর শাস্তি হবে—এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা ছিল।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, নিরস্ত্র ছাত্রদের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর নির্দেশ সরাসরি শেখ হাসিনা দিয়েছিলেন—এ সংক্রান্ত প্রমাণ আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে। আর আওয়ামী লীগ এখন পাল্টা ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের জনগণের কাছে বিশ্বাস স্পষ্ট—শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এর বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলার দ্বিতীয় অভিযোগে শেখ হাসিনাকে ফাঁসির দণ্ড এবং প্রথম অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রায়ে বলা হয়—শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। একইসঙ্গে আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী মামুনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তবে রাজসাক্ষী হওয়ায় চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাজার মাত্রা কমানো হবে।

দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে রায় ঘোষণা শুরু হয় এবং আদালত ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ পাঠ করেন।