মহাশূন্যে অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে

image 184

মহাশূন্যে অল্পের জন্য বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দুটি কৃত্রিম উপগ্রহ মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসায় এক ভয়াবহ সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। শেষ মুহূর্তে চীনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (CNSA) সরাসরি নাসাকে সতর্ক করে বিপদ এড়াতে সাহায্য করে—যা ইতিহাসে এই প্রথম। প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও চীনের এই সহযোগিতামূলক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন ভূ–রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে।

চলতি বছরের অক্টোবর মাসে এক আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্মেলনে নাসার কর্মকর্তা অ্যালভিন ড্রু ঘটনাটি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সম্ভাব্য সংঘর্ষের বিষয়ে চীন নাসাকে সতর্ক করেছিল, এরপর নাসা দ্রুত তাদের উপগ্রহের কক্ষপথ পরিবর্তন করে দুর্ঘটনা ঠেকায়। অতীতে নাসা বহুবার চীনকে এমন সতর্কতা পাঠালেও এবারই প্রথম বিপরীত দিক থেকে এ ধরনের বার্তা এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ গবেষণায় দুই দেশের তীব্র প্রতিযোগিতা থাকলেও এই ঘটনা পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

বর্তমানে পৃথিবীর নিম্নকক্ষপথে বিপুল পরিমাণ কৃত্রিম উপগ্রহ ভাসছে। স্পেসএক্সের স্টারলিংক প্রকল্পের হাজার হাজার উপগ্রহের পাশাপাশি চীনের CNSA–ও নিয়মিত নতুন উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, উপগ্রহের সংখ্যা যত বাড়ছে, মহাকাশে সংঘর্ষের ঝুঁকিও তত বাড়ছে।

এই সংকট সমাধানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও ট্র্যাকিং কেন্দ্র গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। ১৯৫৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের স্পুটনিক–১ উৎক্ষেপণের পর থেকে প্রায় ৫৬ হাজার কৃত্রিম উপগ্রহ বা অনুরূপ বস্তু মহাশূন্যে পাঠানো হয়েছে, যার অর্ধেকই এখন নিষ্ক্রিয়। এসব ভাঙাচোরা উপগ্রহ ও আবর্জনা পৃথিবীর নিম্নকক্ষপথে চলাচলকে বিপজ্জনক করে তুলছে। এ বিষয়ে ১৯৭৮ সালেই নাসার বিজ্ঞানী ডোনাল্ড জে. কেসলার সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন।

শি জিনপিংয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, যদি আন্তর্জাতিক কেন্দ্র সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় সব উপগ্রহের তথ্য একত্রিতভাবে সংরক্ষণ করে, তবে মহাকাশের আবর্জনা নিয়ন্ত্রণ ও পরিষ্কারের কাজ অনেক বেশি কার্যকর হবে। তবে বিভিন্ন দেশের সামরিক বা বেসরকারি উপগ্রহের তথ্য ভাগাভাগিতে কতটা আগ্রহ দেখাবে, তা নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে।

এদিকে মহাকাশে এই সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে নতুন রাজনৈতিক অগ্রগতি দেখা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “জি–২” শব্দ ব্যবহার করে জানান, বৈশ্বিক নেতৃত্ব ধরে রাখতে চীনকে সঙ্গে নিতে চান তিনি।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, তারা বিশ্বকল্যাণের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। বিশ্লেষকদের মতে, নাসা ও CNSA–এর এই বিরল সহযোগিতা হয়তো ভবিষ্যতে “জি–২” ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে ভূমিকা রাখতে পারে। একসময় আমেরিকার থেকে বহু পিছিয়ে থাকা চীন এখন নিজস্ব তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশন স্থাপন করেছে—যা প্রমাণ করে, মহাকাশ রাজনীতির ভবিষ্যৎ পথনির্দেশ ঠিক করবে এই দুই শক্তির পারস্পরিক সম্পর্কই।