
সৌদি আরবে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গত এক সপ্তাহে ২১ হাজারেরও বেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ৩০ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে এসব প্রবাসীকে আটক করা হয়। রোববার সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি উদ্ধৃত করে গালফ নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, অবৈধ প্রবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান ধরপাকড় অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। গত সপ্তাহে দেশজুড়ে ২১ হাজার ৬৪৭ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১২ হাজার ৮৩৮ জন আবাসন আইন, ৪ হাজার ৫৬৪ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ৪ হাজার ২৪৫ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে আটক হয়েছেন। সৌদির বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা ও সরকারি দপ্তরের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় অবৈধভাবে সৌদি সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টার সময় ধরা পড়েছেন এক হাজার ৯৪৩ জন, যাদের মধ্যে ৫৪ শতাংশ ইথিওপীয়, ৪৫ শতাংশ ইয়েমেনি এবং বাকি ১ শতাংশ অন্য দেশের নাগরিক। এছাড়া অবৈধভাবে দেশত্যাগের চেষ্টার সময় আরও ৩৭ জনকে আটক করা হয়।
অভিযানে আবাসন ও কর্মবিধি লঙ্ঘনকারীদের আশ্রয় বা সহযোগিতা দেওয়ার অভিযোগে সৌদিতে বসবাসরত ২৬ জনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে ৩২ হাজার ৮০১ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে, যাদের মধ্যে ৩১ হাজার ২০৭ জন পুরুষ ও এক হাজার ৫৯৪ জন নারী।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ২১ হাজার ৮০০ জনকে নিজ নিজ দেশের দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে ভ্রমণ সংক্রান্ত নথি সংগ্রহের জন্য। আরও ৬ হাজার ১২ জনকে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এরই মধ্যে ১২ হাজার ৯৮ জনকে সৌদি আরব থেকে নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম বা এমন কাজে সহায়তার অপরাধে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ রিয়াল জরিমানার বিধান রয়েছে। এ বিষয়ে তারা বারবার সতর্কবার্তা দিয়ে আসছে।
প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ জনসংখ্যার দেশ সৌদি আরবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ অভিবাসী শ্রমিক কাজ করেন। দেশটির গণমাধ্যম নিয়মিতভাবে অবৈধ প্রবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান ও গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ করে আসছে।