বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনার কারণ প্রকাশ করলেন রিজভী

image 449

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সুস্থ থাকলে আসন্ন নির্বাচনি গণসংযোগে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি জানান, বেগম জিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিতে বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনা হচ্ছে।

রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রিজভী দেশে একের পর এক আগুন লাগার ঘটনা এবং সরকারের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কারণে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

অগ্নিকাণ্ডের সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এত বড় অগ্নি প্রজ্জ্বলন কীভাবে সম্ভব? ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আটকে রাখা হচ্ছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দ্বারা—এটা কি কেবল ব্রোক্রেসি, নাকি এর পেছনে রয়েছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র?” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আজও চট্টগ্রামে একটি লঞ্চে আগুন লেগেছে। একের পর এক এই আগুনের ঘটনা কাকতালীয় নয়—এগুলো জাতিকে উদ্বিগ্ন করছে। এটি কি নাশকতার অংশ নয়?”

ভারতের ভূমিকা নিয়েও রিজভী প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য একটি মহল সক্রিয় এবং ভারত বিভিন্ন সময়ে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এ চেষ্টাকে সহযোগিতা করেছে। তিনি বলেন, “ভারত চায় না বাংলাদেশে স্থিতিশীল সরকার গড়ে উঠুক। তারা বরাবরই শেখ হাসিনার মতো অবৈধ সরকারকে সমর্থন দিয়ে এসেছে।”

রিজভী ২০১৪ সালের নির্বাচন প্রসঙ্গে ভারতের কূটনীতিকদের এরশাদকে নির্বাচনে অংশ নিতে প্রভাবিত করার চেষ্টাকে “বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ” হিসেবে উল্লেখ করেন।

সরকারের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, “সরকার ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কিন্তু এই সিদ্ধান্ত নস্যাৎ করার চেষ্টা চলছে। একের পর এক আগুন লাগার ঘটনাগুলো কেবল দুর্ঘটনা না—পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হতে পারে।”

তিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার নির্দেশ দেন এবং জুলাই সনদকে ‘মেঘনা কার্টা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। রিজভী সতর্ক করে বলেন, “ডেমোক্রেসির জায়গায় যদি মবক্রেসি চলে, তাহলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।”

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফৎ আলী সপু প্রমুখ।