ঈদগাহ মাঠের বিরোধে দুই সপ্তাহ বাজার বন্ধ

image 437

পাবনার চাটমোহর উপজেলায় ঈদগাহ মাঠের মালিকানা নিয়ে দুই গ্রামের মধ্যে বিরোধের কারণে দুই সপ্তাহ ধরে মুলগ্রাম ইউনিয়নের আটলংকা বাজারে অন্তত ২০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এতে দোকানিরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, আর স্থানীয় বাসিন্দারা দৈনন্দিন জীবনে দুর্ভোগে পড়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

স্থানীয়দের তথ্য ও লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, আটলংকা বাজারের পাশে চিকনাই নদীর তীরে একটি সরকারি ঈদগাহ মাঠ রয়েছে। অতীত দুই ঈদে মাঠটিতে দুই গ্রাম—বন্যাগাড়ি ও আটলংকা—নামাজ আদায় করত। সম্প্রতি আটলংকা গ্রামের বাসিন্দারা মাঠটি একমাত্র নিজেদের দাবি করেছেন, যা বন্যাগাড়ি গ্রামের বাসিন্দাদের ক্ষুব্ধ করেছে।

২ অক্টোবর দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, এতে কয়েকজন আহত হন। এরপর থেকে দুই পক্ষ একে অপরের এলাকায় চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে আটলংকা বাজারের প্রায় ২০টি দোকান খোলা সম্ভব হচ্ছে না। বন্যাগাড়ি গ্রামের ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, আটলংকার বাসিন্দারা তাদের বাজারে যেতে দিচ্ছেন না। একই অভিযোগ উঠেছে আটলংকা গ্রামের পক্ষ থেকেও।

মুদিদোকানদার মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, “১৫ দিন ধরে দোকান খোলা সম্ভব হচ্ছে না। মালপত্র নষ্ট হচ্ছে। আমরা সমাধান চাই।”
আটলংকা গ্রামের বাসিন্দা হারেস আলী বলেন, “বন্যাগাড়ি গ্রামের বাসিন্দারা আমাদের রাস্তা আটকে রেখেছেন। কেউ গেলে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। নারীরা স্কুলে যাওয়ার সময়ও নিরাপদ নয়। এটা মেনে নেওয়া যায় না।”

চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুরুল জানান, ঈদগাহ মাঠের জায়গা সরকারি। ইতোমধ্যেই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছেন। তবে দুই গ্রামই মাঠটি নিজেদের দাবি করছেন। বিরোধ মীমাংসার জন্য দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। আশা করা যায়, দু-এক দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে।