দার্জিলিংয়ে রাতভর বৃষ্টি ও ভূমিধসে নিহত ১৪ জন, সব পর্যটন স্পট বন্ধ

image 79

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে দার্জিলিং জেলায় ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত ও নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেকে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, শনিবার রাতভর প্রবল বর্ষণের পর রবিবার (৫ অক্টোবর) সকালে দার্জিলিং, মিরিক ও সুখিয়াপোখরির বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধস দেখা দেয়। এতে একাধিক বাড়ি ও রাস্তা মাটিচাপা পড়ে যায়। এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে, এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

দার্জিলিং জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ভারী বর্ষণের কারণে পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দার্জিলিং-শিলিগুড়ি প্রধান সড়কও বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি ও কোচবিহারেও বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) শনিবার রাতে সিকিমের ছয়টি জেলায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছিল। ঘণ্টায় ৩০–৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা জানানো হয়। পরে সকালে সতর্কতা নামিয়ে অরেঞ্জ অ্যালার্ট ঘোষণা করা হয়।

আইএমডি আগেই জানিয়েছিল, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টি ৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলতে পারে। কর্মকর্তাদের মতে, ভুটানে টানা বৃষ্টির প্রভাবে উত্তরবঙ্গে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

দার্জিলিংয়ের জনপ্রিয় পর্যটন স্পটগুলো—টাইগার হিল, রক গার্ডেনসহ সব দর্শনীয় স্থান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)। পাশাপাশি, ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেন সার্ভিসও অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের সতর্ক থাকতে এবং আবহাওয়া ও সড়ক পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্যের দিকে নজর রাখতে আহ্বান জানিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “দার্জিলিং, কালিম্পং ও কুরসিয়ং অঞ্চলে ভূমিধস ও বন্যায় সড়ক যোগাযোগ প্রায় সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। শিলিগুড়ি, তরাই ও ডুয়ার্সের সঙ্গেও সংযোগ বন্ধ।”

তিনি দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা এখন সবচেয়ে জরুরি। তার মতে, “উত্তরবঙ্গের মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।”