
ইসরায়েলি অবরোধ ভেঙে গাজায় ত্রাণ পাঠানোর সর্বশেষ প্রচেষ্টা আবারও থমকে গেছে। বুধবার (১ অক্টোবর) ইসরায়েলি বাহিনী ৪০টিরও বেশি বেসামরিক নৌযান আটক করেছে। এসব নৌযানে প্রায় ৫০০ জন সংসদ সদস্য, আইনজীবী ও কর্মী ছিলেন। তবে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার দুটি জাহাজ এখনো গাজামুখী রয়েছে।
আগের অভিজ্ঞতা
ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবারও আটক ব্যক্তিদের ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হবে এবং পরে বহিষ্কার করা হবে।
এর আগে সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ অনেকে একইভাবে আটক হয়েছিলেন। তখন তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়নি; অভিবাসন আইনেই বহিষ্কার করা হয়েছিল। কেউ স্বাক্ষর করে তাৎক্ষণিকভাবে দেশ ছাড়লেও, ফরাসি ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য রিমা হাসানসহ কয়েকজন স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেন। পরে তাদের ১০০ বছরের জন্য ইসরায়েল প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
শনাক্তকরণ ও বহিষ্কারের ধাপ
মানবাধিকার সংগঠন আদালা জানিয়েছে, এবারও তারা আটক কর্মীদের আইনি সহায়তা দেবে। কর্মীদের প্রথমে দক্ষিণ ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হবে, এরপর শনাক্তকরণ শেষে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে। সেখান থেকে কেটজিওত কারাগারে স্থানান্তরের সম্ভাবনা আছে।
উচ্চ নিরাপত্তার কারাগারের আশঙ্কা
আইন বিশেষজ্ঞ ওমের শাটজ বলেন, একসঙ্গে ৫০০ জনকে প্রক্রিয়াজাত করা কঠিন হওয়ায় এবার তাদের কেটজিওতের মতো উচ্চ নিরাপত্তার কারাগারে নেওয়া হতে পারে। তবে ওই কারাগার কঠোর পরিবেশের জন্য কুখ্যাত।
পুনরাবৃত্ত অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্ন
আদালা জানিয়েছে, সাধারণত প্রথমবার অংশ নেওয়া কর্মীদের স্বল্পমেয়াদি আটক ও বহিষ্কার করা হয়। তবে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সম্প্রতি প্রস্তাব করেছেন, এবার দীর্ঘমেয়াদি আটক করা হোক। ফলে এবার আগের তুলনায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে তারা বলেছে, নৌযানগুলোকে সতর্ক করা হয়েছিল যে তারা সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করছে এবং ‘আইনসম্মত নৌ অবরোধ’ ভঙ্গ করছে। আয়োজকদের গন্তব্য পরিবর্তনের অনুরোধ জানানো হলেও, তারা তা মানেনি।