
ইসরায়েলি বাহিনী গাজাগামী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র ১৩টি নৌযান আটক করেছে। এদিকে প্রায় দুই ডজন নৌযান এখনও গাজার দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যার মধ্যে একটি ইতিমধ্যেই গাজার আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশ করেছে। ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ ভিডিও) চালু করেছে।
ইসরায়েল দাবি করেছে, কর্মীরা ‘বৈধ নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা’ করছে। তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাধা দেওয়া যায় না। এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
নৌযানগুলিতে থাকা আইনজীবীরা ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সামুদ্রিক আইন লঙ্ঘনের তথ্য নথিভুক্ত করছেন। আল জাজিরার সাংবাদিক হাসান মাসউদ জানিয়েছেন, এই তথ্য জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আদালতে পাঠানো হবে। এছাড়া ইতালির সিসিলি থেকে আরও একটি ফ্লোটিলা গাজার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।
তুরস্ক, স্পেন ও ইতালি নিন্দা জানিয়েছে এবং প্রয়োজনে নিজেদের নাগরিকদের সহায়তায় নৌযান বা ড্রোন পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলের হামলাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দিয়েছে। ব্রাজিল জানিয়েছে, মানবিক ত্রাণ বহনকারী শান্তিপূর্ণ কর্মীদের ওপর হামলা নিন্দনীয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এটিকে ‘ঘৃণ্য আক্রমণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি ম্যানডলা ম্যান্ডেলা বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি নিরাপদ যাত্রার আহ্বান জানিয়েছেন। ফিলিস্তিনি নেতা হানান আশরাওয়ি ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘অপরাধমূলক জলদস্যুতা’ আখ্যা দিয়েছেন।
কলম্বিয়া, স্পেন, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া ঘটনাটির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে। কলম্বিয়া দেশটিতে থাকা ইসরায়েলি কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে, স্পেন ইসরায়েলের দূতকে তলব করেছে, এবং যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক আইন মেনে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
ফ্লোটিলার লক্ষ্য ছিল গাজার ক্ষুধার্ত জনগণের কাছে খাদ্য, পানি ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়া এবং ইসরায়েলের পূর্ণ অবরোধকে আন্তর্জাতিক নজরে আনা।