দেশের বিমানবন্দর নিরাপত্তা জোরদারের জন্য নতুন বিশেষ বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা

image 118

সরকার দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে একটি নতুন বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। “এয়ার গার্ড অব বাংলাদেশ (এজিবি)” নামের এই বাহিনী গঠনের প্রস্তাব ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিকট জমা পড়েছে এবং এর বাস্তবায়ন নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১২ সদস্যের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব। কমিটি ৩১ আগস্ট থেকে কাজ শুরু করেছে এবং সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯৭ কোটি টাকা

সরকারি সূত্র জানায়, প্রথমে দেশের বিমানবাহিনী এ বাহিনী গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল। প্রস্তাবটির যৌক্তিকতা যাচাই এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ধারণ করতে গঠন করা হয়েছে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি। এই কমিটিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন, অর্থ, প্রতিরক্ষা, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখার প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত আছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি জানান, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (ICAO)-র নির্দেশনার আলোকে এয়ার গার্ড গঠন করা সময়োপযোগী পদক্ষেপ। প্রথমে বাহিনী হিসেবে কাজ শুরু করলেও ভবিষ্যতে এটিকে পূর্ণাঙ্গ অধিদপ্তরে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্ব ভেতরে বিমানবাহিনী এবং বাইরে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) পালন করছে। এছাড়া এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) বাহিনী যাত্রী ও লাগেজ স্ক্রিনিং, বিস্ফোরক শনাক্তকরণ, টহল এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার মতো কার্যক্রম চালাচ্ছে।

তবে, দিন দিন অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধির কারণে বিমানবন্দর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রা চোরাচালান, মানবপাচার, যাত্রী হয়রানি ও লাগেজ চুরি এখন সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিরো টলারেন্স নীতির পরও কার্যত অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এপিবিএন ও আনসারের ৯০২ সদস্য দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ায় ছয় ঘণ্টা ধরে বিমান ওঠানামা বন্ধ হয়। তখন বিমানবাহিনী জরুরি ভিত্তিতে নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়। এরপর থেকে বেবিচকের এভসেক বাহিনীর সঙ্গে বিমানবাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে।

তবে এই যৌথ ব্যবস্থায় এপিবিএন ও বিমানবাহিনীর মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। কমান্ড সেন্টার দখল, গুরুত্বপূর্ণ নথি হারানো এবং পাল্টাপাল্টি বিবৃতির মাধ্যমে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। এতে সরকার পক্ষও বিব্রত হয়।

বেবিচক সূত্র জানায়, তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বর্তমানে এভসেক বাহিনীতে সাড়ে তিন হাজার জনবল এবং মোট পাঁচ হাজারের বেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন। তবে দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন একক বাহিনী গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দেশের বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান দ্বন্দ্ব এবং সমন্বয়হীনতা দূর করে একটি দক্ষ, পেশাদার ও একক বাহিনী গঠন করা হলে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অনেক সহজ হবে। তবে বাস্তবায়নের সময় বাহিনীগুলোর মধ্যকার বিদ্যমান দ্বন্দ্ব সমাধান করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বর্তমানে প্রস্তাবিত এয়ার গার্ড অব বাংলাদেশের গঠন ও কাঠামো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বাস্তবায়িত হলে এটি দেশের বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।