
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাঁচ দফা দাবি সামনে রেখে নতুন আন্দোলনে নামছে। একই দাবিতে ইতোমধ্যে আরও কয়েকটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি চালু, জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি মিলিয়ে আগামী তিন দিনের কর্মসূচি দিয়েছে জামায়াত।
জামায়াতের এই কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে—তাদের আন্দোলন কি বিএনপির বিরুদ্ধেই অবস্থান তৈরি করছে? এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ মনে করেন, বিষয়টি তেমন নয়।
তিনি বলেন, “প্রত্যেক দলের নিজস্ব রাজনীতি রয়েছে। এটি গণতান্ত্রিক কাঠামোর বাইরে কিছু না। জামায়াতের উত্থাপিত দাবিগুলো নতুন কিছু নয়। পিআর পদ্ধতি, জাতীয় পার্টির ইস্যু কিংবা জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো কয়েক মাস ধরেই আলোচনা করছে। কোন বিষয়ে ঐকমত্য হবে এবং বাস্তবায়ন কিভাবে করা সম্ভব, তা নিয়েই আলাপ চলছে।”
ফুয়াদ আরও বলেন, “বিভিন্ন ইস্যুতে দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব খুব বেশি নেই। পিআর পদ্ধতি নিয়ে কয়েকটি দল ইতোমধ্যে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করেছে। তবে কমিশন বলছে, সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে তা বাস্তবায়ন কঠিন। আমার মনে হয়, যদি ঘরের ভেতর আলোচনায় সমাধান খুঁজে পাওয়া যেত, তবে আজকের মতো আন্দোলনের প্রয়োজন হতো না।”
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য আছে ঠিকই, তবে তা এমন নয় যে একেবারেই সমাধান সম্ভব না। সম্প্রতি বিভিন্ন দল বৈঠকে বসে এসব বিষয় নিয়েই আলোচনা করেছে।
জামায়াতের আন্দোলন কি অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে—এমন প্রশ্নে ফুয়াদ বলেন, “আমি তা মনে করি না। এটি সরকারবিরোধী আন্দোলন নয়, বরং সরকারের কাছে দাবি-দাওয়ার আন্দোলন। যারা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন, তাদের উদ্দেশ্য সরকারের পতন নয়; বরং নিজেদের দাবিগুলো সরকারকে জানানো।”