চবি সংঘর্ষে বিতর্কিত মন্তব্যে জামায়াত নেতাকে অব্যহতি

image 37

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জোবরা গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও হাটহাজারী উপজেলার আমীর মো. সিরাজুল ইসলাম। এর জেরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে অব্যাহতি দিয়েছে জামায়াত। তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি প্রার্থী ছিলেন।

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমীর মো. আলা উদ্দিন সিকদারের সভাপতিত্বে এক জরুরি কর্মপরিষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তীতে উত্তর জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক ফজলুল করিম সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দলীয় সূত্র জানায়, চবি ও পাশের জোবরা গ্রাম প্রসঙ্গে সিরাজুল ইসলাম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের পৈতৃক সম্পত্তির ওপর গড়ে উঠেছে। আমরা জমিদার, জমিদারের ওপর কেউ হস্তক্ষেপ করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।” তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা হয় এবং দলীয় মহলেও ক্ষোভ দেখা দেয়।

জামায়াতে ইসলামী এক বিবৃতিতে জানায়, সিরাজুল ইসলামের এই মন্তব্য ব্যক্তিগত মতামত, যা দলের নীতিমালার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। এ ঘটনায় দলটি দুঃখ প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানায়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জোবরা গ্রাম কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান, যা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।

জামায়াত সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৩০ আগস্ট মধ্যরাত থেকে ৩১ আগস্ট বিকেল পর্যন্ত টানা প্রায় ১৪ ঘণ্টা ধরে চবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জোবরা গ্রামের লোকজনের সংঘর্ষ চলে। এতে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দায়ের করা মামলায় ইতোমধ্যে নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।