ঢাবি ডাকসু নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন, কঠোর আচরণবিধি জারি

image 85

আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভোটগণনার সময়ও সেনা সদস্যরা কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত থাকবেন।

চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সাতটি প্রবেশপথে সেনাসদস্যরা অবস্থান করবেন। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া থেকে ফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত কেন্দ্রগুলো কর্ডন করে রাখা হবে, যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো যায়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচনের দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ থাকবে। ভোটের সাত দিন আগে থেকেই হলগুলোতে কোনো বহিরাগত থাকতে পারবে না।

এদিকে আজ থেকে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে, যা চলবে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত প্রচারের সুযোগ থাকলেও ছাত্রীদের হলে রাত ১০টার পর প্রচার করা যাবে না। প্রচারণায় পোস্টার, লিফলেট ও হ্যান্ডবিল ব্যবহারে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

কমিশন সতর্ক করেছে—কোনো প্রার্থী মুক্তিযুদ্ধ, পারিবারিক বা ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বীকে হেয় করলে তার প্রার্থিতা বাতিলের পাশাপাশি ছাত্রত্বও বাতিল হতে পারে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে নিরাপদ ভোট নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গৃহীত হয়।

মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে ২১ জন প্রার্থী সরে দাঁড়িয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন ছাত্রদলের। ঘোষিত প্যানেলে স্থান না পেয়ে তারা দলীয় সিদ্ধান্তে সরে দাঁড়ান বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, বাতিল হওয়া মনোনয়নের বিরুদ্ধে আপিল করা ৩৪ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পুনর্বহাল করা হয়েছে।

এ ছাড়া নিষিদ্ধ সংগঠনে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই প্রার্থী—জুলিয়াস সিজার তালুকদার ও বায়েজিদ বোস্তামী—কে ভোটার ও প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে জুলিয়াস সিজার অভিযোগ অস্বীকার করে ন্যায়বিচারের আবেদন জানিয়েছেন।

আচরণবিধির মূল নির্দেশনা

  • কেবল সাদাকালো পোস্টার, লিফলেট ও হ্যান্ডবিল ব্যবহার করা যাবে।
  • পোস্টার লাগানো যাবে না দেয়াল, যানবাহন, গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা ক্যাম্পাসের কোনো স্থাপনায়।
  • তোরণ, আলোকসজ্জা, দেয়াল লিখন, রঙ কিংবা চিত্রাঙ্কন নিষিদ্ধ।
  • ভোটারদের উপঢৌকন, খাবার বা পানীয় দেওয়া যাবে না।
  • আক্রমণাত্মক বক্তব্য, গুজব বা উসকানিমূলক প্রচারণা নিষিদ্ধ।
  • সভা-সমাবেশ বা শোভাযাত্রার আগে ২৪ ঘণ্টা আগে অনুমতি নিতে হবে।
  • প্রত্যেক হলে একটি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ তিনটি প্রজেকশন মিটিংয়ের সুযোগ থাকবে।
  • অনলাইনে কেবল আইনসিদ্ধ ইতিবাচক প্রচারণা চালানো যাবে।

আচরণবিধি ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানা, প্রার্থিতা বাতিল, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার বা আইনগত শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।