
গত তিন বছরে দেশে দারিদ্র্যের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি চারজনের একজন দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। পাশাপাশি অনেক পরিবার এমন ঝুঁকিতে রয়েছে যে সামান্য অসুস্থতা বা অপ্রত্যাশিত সংকটে পড়লেই তারা গরিব হয়ে যেতে পারে।
করোনা মহামারির (২০২০) আগে টানা তিন দশক ধরে দারিদ্র্য কমছিল। কিন্তু মহামারির পর থেকে দারিদ্র্যের হার উল্টো বাড়তে শুরু করেছে, যা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রযাত্রার জন্য একটি বড় বাধা।
এ তথ্য উঠে এসেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)-এর সাম্প্রতিক গবেষণায়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় পরিচালিত “ইকোনমিক ডায়নামিকস অ্যান্ড মুড অ্যাট হাউসহোল্ড লেভেল ইন মিড ২০২৫” শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়, ২০২৫ সালের মে মাসে দারিদ্র্যের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ শতাংশে। অথচ ২০২২ সালের সরকারি হিসাবে (বিবিএসের খানা আয়-ব্যয় জরিপ অনুযায়ী) এ হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের ১৮ শতাংশ পরিবার হঠাৎ কোনো দুর্যোগে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে অতি বা চরম দারিদ্র্যের হারও বেড়েছে। ২০২২ সালে অতি দারিদ্র্যের হার ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে।