ঐতিহাসিক সংমার্চ আজ পল্টনের মুক্তাঙ্গন থেকে ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে

jasak

বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫ |  রাজধানীর পল্টনের মুক্তাঙ্গনে শুরু হয়ে গেছে এক অনন্য সাংস্কৃতিক অভিযাত্রা—‘সংমার্চ’। জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (জাসাক) আয়োজিত এই সংগীতময় পদযাত্রার নেতৃত্ব দেবেন জাসাকের সভাপতি, জাগ্রত কবি মুহিব খান। বিকেল ২টায় শুরু হতে যাওয়া এ সংমার্চ পল্টনের মুক্তাঙ্গন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে রাজধানীর ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে অগ্রসর হবে।

বিভিন্ন পর্যায়ের শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই সংমার্চ হয়ে উঠতে চলেছে এক চেতনার উন্মেষ। সংগীত, কবিতা, আবৃত্তি ও লোকজ ঐকতানের সম্মিলনে গড়ে ওঠা এ পদযাত্রার মূল বার্তা—সম্প্রীতি, মানবতা ও বৈশ্বিক সংহতির গান গেয়ে গেয়ে হৃদয়ের সেতুবন্ধন নির্মাণ।

এবারের সংমার্চে প্রতিধ্বনিত হবে একটি ঐক্যজাগানিয়া শ্লোগান—“না ভারত না বাংলাদেশ, মুসলমানের একই দেশ / না ঢাকা না দিল্লি ভাই, মুসলমানের এক লড়াই।” এ স্লোগান কেবল আবেগ নয়, এটি মুসলিম উম্মাহর অখণ্ড সংহতির প্রতিচ্ছবি বলেই মনে করেন আয়োজকরা।

মুহিব খান বলেন, ‘এই সংমার্চ কেবল প্রতীকী নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক বিপ্লব, যা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে এবং বাঙালি সংস্কৃতির প্রাণবন্ত রূপ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেবে।’

সংমার্চে অংশ নিচ্ছেন দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা কবি, গীতিকার, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। উপস্থিত থাকবেন বিভিন্ন গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক। মিছিল নয়, সংগীত-সংলাপের এই পদযাত্রা হবে একান্তেই শান্তিপূর্ণ, নান্দনিক এবং বার্তাবাহী। সন্ধ্যার আগে ভারতীয় দূতাবাসের সামনে গিয়ে শেষ হবে আজকের পর্ব, তবে সংমার্চের উদ্দীপনা বহমান থাকবে।

জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আয়োজনে এমন একটি বৃহৎ পদযাত্রা ঢাকায় এটাই প্রথম, যা ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এই সংমার্চ বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার মানবিক ঐক্যের স্বপ্নকেও জাগিয়ে তুলবে।

popup