
টেকসই রাজনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দিল্লি যাচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এই সফরে ঢাকা ভারতের অবস্থান ও মনোভাব বুঝতে চাইবে এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গঠনের বিষয়ে বার্তা দেবে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ৭–৯ এপ্রিলের সফরের মূল উদ্দেশ্য ভারতের অবস্থান বোঝা এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক মর্যাদা ও আস্থার ভিত্তিতে সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি আকারে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দেওয়া।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ১১–১২ এপ্রিল মরিশাসের রাজধানী পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে যোগদানের আগে দিল্লি সফর করবেন। তাঁর সঙ্গে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এটি বাংলাদেশের প্রথম কোনো মন্ত্রীর দিল্লি সফর। কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, খলিলুর রহমান ৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে আলোচনা করবেন। পরদিন তিনি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎও করবেন।
সূত্রের মতে, ঢাকা চাইছে দিল্লির সঙ্গে স্বাভাবিক ও সুসম্পর্ক গড়ে তোলা, যা কারো চাপিয়ে দেওয়া নয়। সম্পর্কের ক্ষেত্রে গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী তিক্ততার অধ্যায় পার হয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনাও হতে পারে।
সম্পর্কের উন্নয়নে ভারতের কিছু পদক্ষেপ নেওয়াও জরুরি, যা সরাসরি জনগণের জীবনে প্রভাব ফেলে। উদাহরণস্বরূপ, নির্বাচনের পর ভারতের নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশের মিশনগুলোতে ভিসা চালু হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা এখনও চালু হয়নি। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ভারতের আকাশপথ এবং স্থলবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি এবং ৯ ধরনের পাটজাত পণ্যের রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ হয়েছিল, যা এখনও প্রত্যাহার হয়নি। সম্পর্কের উন্নয়নে এই ইস্যুগুলো সমাধান করা অত্যন্ত জরুরি।