খুলনার কয়রার শাকবাড়ীয়া নদীর তীরে গাববুনিয়া বেড়িবাঁধটি গত তিন দশক ধরে বারবার জোয়ার-দুর্যোগে ভাঙছে। পানি উঠলেই বাঁধে ফাটল, ঘরবাড়ি ডুবে যায়, কৃষিজমি তলিয়ে যায়। প্রতি বছরই সংস্কারের নামে অস্থায়ী কাজ হয়, কিন্তু টেকসই বাঁধ তৈরি হয় না।

কয়রার উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের গাববুনিয়া, মদিনাবাদ লঞ্চঘাট থেকে গোবরা, হরিণখোলা-ঘাটাখালী, মহারাজপুর, কাশিয়াবাদ ও দশহালিয়া পর্যন্ত একাধিক স্থানে বেড়িবাঁধ এখন ঝুঁকিতে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন, ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নিচের দিকের মাটি কেটে ওপরে সংস্কার করার ফলে বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে। কয়েক মাসের মধ্যেই এসব বাঁধ আবারও ভেঙে যাচ্ছে।

মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের কালীবাড়ি, গিলাবাড়ি, আলোর কোলসহ ১০-১২ কিলোমিটার বাঁধ ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনো সময় নদীর পানি প্রবেশ করলে একাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। খুলনা জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছায় ৬০৪টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ৩টি মুজিবকেল্লা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ৫,০০০-এর বেশি স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

বাপাউবোর তথ্যমতে, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে প্রায় ৫১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ। কেবল কয়রা ও দাকোপে প্রায় ১২ কিলোমিটার বাঁধের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।

তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, বরাদ্দের অর্থ নয়ছয়ের কারণে টেকসই বাঁধ তৈরি হচ্ছে না। একাধিক প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানাতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেও ফল মিলছে না। ঠিকাদারদের নিম্নমানের কাজ ও তদারকির অভাবে বারবার ভাঙছে বাঁধ, ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে উপকূলের মানুষকে।