চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চন নগর ইউনিয়নের মধ্যম কাঞ্চন নগর গ্রামে ‘চোর’ সন্দেহে এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত মুহাম্মদ রিহান (১৫) সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। এ ঘটনায় আরও দুই কিশোর মুহাম্মদ রাহাত (১৫) ও মুহাম্মদ মানিক (১৪) গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নিহত রিহানের বাবা মুহাম্মদ লোকমান স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ক্যানটিন চালান এবং অতিরিক্ত আয়ের জন্য ছয় মাস আগে বাড়ির পাশে একটি চায়ের দোকান খুলেছিলেন। সেই দোকানে বাবাকে সহযোগিতা করত রিহান। শুক্রবার ভোরে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন যুবক চোরের অপবাদ দিয়ে রিহান ও তার দুই বন্ধুকে ধাওয়া করে। আত্মরক্ষার জন্য তারা নির্মাণাধীন একটি বাড়ির ছাদে আশ্রয় নেয়। পরে সেখান থেকে টেনে এনে গ্রামের চেইঙ্গা সেতু এলাকায় তাদের বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় রিহান।

নিহতের মা খাদিজা আকতার বলেন, “আমার ছেলেকে আমার সামনেই পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। ও শেষবার পানি চেয়েছিল, সেটাও তাকে দিতে দেয়নি। কেবল অন্য গ্রামের ছেলেদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করত বলেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।”

এ ঘটনায় খাদিজা আকতার পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে দুই আসামি—মুহাম্মদ নোমান (২২) ও মুহাম্মদ আজাদকে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে। বাকি তিনজন—নাজিম উদ্দিন, মোহাম্মদ তৈয়ব ও মহিউদ্দিন পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয়দের ধারণা, পূর্বের শত্রুতার জের ধরেই কিশোরদের বিরুদ্ধে ‘চোর’ সন্দেহের নাটক সাজানো হয়। গ্রেপ্তার হওয়া আজাদের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ আগে রিহানের বাবার চায়ের দোকানে তর্কাতর্কির ঘটনাও ঘটেছিল। ঘটনার সময় শত শত মানুষ জড়ো হলেও আসামিরা কাউকে এগোতে দেয়নি। এমনকি যারা দূর থেকে ভিডিও বা ছবি তুলছিলেন, তাদেরকেও বাধা দেওয়া হয় এবং কারও কারও মোবাইল থেকে ছবি মুছে ফেলা হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রিহানকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। শোকে মুহ্যমান তার পরিবার জানায়, কোনো আপস নয়, তারা শুধুমাত্র আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান।